ওঙ্কার ডেস্ক: ইরানে সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও বিক্ষোভ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতেই দেশে ফিরতে শুরু করেছেন সেখানে আটকে থাকা ভারতীয়রা। শুক্রবার গভীর রাতে তেহরান থেকে দিল্লিতে অবতরণ করে প্রথম বাণিজ্যিক উড়ান। দীর্ঘ কয়েকদিন অনিশ্চয়তা ও উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকার পর স্বদেশে পা রেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন যাত্রীরা।
ফেরত আসা ভারতীয়দের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রছাত্রী, পর্যটক ও বিভিন্ন পেশায় কর্মরত মানুষ। তাঁদের অনেকেই জানিয়েছেন, বিক্ষোভের সময় ইরানের একাধিক শহরে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল। পাশাপাশি রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষোভ, নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারি এবং যান চলাচলের উপর বিধিনিষেধের কারণে দৈনন্দিন জীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় সুযোগ মিলতেই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন অনেকে।
এই উড়ানগুলি কোনও বিশেষ সরকারী উদ্ধার অভিযানের অংশ ছিল না। নিয়মিত বাণিজ্যিক বিমান পরিষেবার মাধ্যমেই যাত্রীরা দেশে ফিরেছেন। দেশের বিদেশমন্ত্রীর তরফ থেকে জানানো হয়েছিল পরিস্থিতির অবনতি হলে ‘এয়ারলিফ্ট’ করে ভারতীয় দের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। প্রসঙ্গত, সরকারী সুত্র অনুযায়ী, ইরানে প্রায় নয় হাজার ভারতীয় রয়েছেন। এর আগে অশান্ত পরিস্থিতির কারণে ইরানের আকাশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছিল। পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির পর ফের চালু হয় উড়ান পরিষেবা, যার ফলেই সম্ভব হয় ভারতীয়দের প্রত্যাবর্তন।
দিল্লি বিমানবন্দরে নামার পর যাত্রীরা জানান, কঠিন সময়ে ভারতীয় দূতাবাসের তরফে নিয়মিত যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাওয়া গিয়েছিল। অনেকেই সরকারের উদ্যোগ ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, ইরানের পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ইরানে চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক বিক্ষোভের জেরে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্টের হস্তক্ষেপের পর মধ্য প্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বিষয়টি আরও ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল বিদেশমন্ত্রকের কাছে। যদিও বর্তমানে অশান্তি কিছুটা কমেছে, তবু ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চলমান অশান্তির প্রেক্ষাপটে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।
