ওঙ্কার ডেস্ক: বেশ কিছু দিন ধরে অশান্ত হয়ে উঠেছে ভারতের প্রতিবেশি পাকিস্তান। আত্মঘাতী বোমারু হামলায় বিধস্ত বালুচিস্তান। পালটা আক্রমণ চালায় পাক সেনাও। দুই পক্ষের গুলি, বোমা হামলায় ১৪৫ জনেরও বেশি নিহত হয়েছে বলে জানিয়ছে সেদেশের প্রশাসন। কিন্তু এতেই থেমে থাকেনি ইসলামাবাদ। অতীতের মতই এবারও তাদের দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তির নেপথ্যে ভারতকেই দোষারোপ করেছে ইসলামাবাদ। অন্যদিকে পাকিস্তানের সমস্ত দাবী খারিজ করে একটি সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।
নয়া দিল্লি থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “ভারত সরকার পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বালুচিস্তান হামলার ঘটনায় ভারতকে যুক্ত করার দাবিকে একেবারে ভিত্তিহীন, ফালতু ও অগ্রহণযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছে”। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জয়সাওয়াল প্রকাশ্যেই বলেছেন, পাকিস্তান এই ধরনের অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যবহার করছে এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে সৃষ্টি হওয়া জটিলতা থেকে নজর ঘোরাতে এই ধরনের প্ররোচিত বক্তব্য দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিনে দক্ষিণ পশ্চিম পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশে একাধিক সমন্বিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা তীব্র সহিংসতায় পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ, বন্দুকযুদ্ধ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায় সাধারণ জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তাবাহিনীর দাবি, এই হামলায় নিরাপত্তাকর্মী ও নাগরিকসহ বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং আহতও হয়েছে। যদিও স্থানীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে থেকে কিছু দল এসব হামলার দায় স্বীকার করলেও, পাকিস্তান সরকার তা ভারতকেই দায়ী করার চেষ্টা করেছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সাওয়াল বলেছেন, “ভারত কখনোই অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বা নিরাপত্তা অবস্থার সঙ্গে হস্তক্ষেপ করে না। এই ধরনের অভিযোগ কোনো বৈধ ন্যায্যতার ভিত্তি রাখে না।” তিনি আরও বলেছেন, পাকিস্তান সরকারের উচিত তার নিজের ভূখণ্ডে সন্ত্রাস ও সহিংসতার প্রকৃত কারণগুলো চিহ্নিত করা এবং স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রতিকূলতার দিকে মনোযোগ দেওয়া।
ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, বালুচিস্তানের মানুষ বহু বছর ধরে মৌলিক মানবাধিকার ও সুযোগের দাবিতে আন্দোলন করছে এবং তাদের দাবি, মোকাবিলা করার বদলে যে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে তা অনেক সময় আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। ভারত এ ধরনের পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত যেকোনো পদক্ষেপকে সমর্থন করে, তবে তা কখনোই প্রতিবেশি দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ভাঙার উদ্দেশ্যে নয়।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শীর্ষ কূটনৈতিক মহলগুলোতে উত্তেজনা আরও বাড়েছে। দুই দেশই একে অপরের অবস্থানকে কঠোর ভাষায় উপস্থাপন করেছে, ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে। রাজনীতিকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি শুধুমাত্র দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সমস্যাকে নয়, বরং সমগ্র দক্ষিন এশিয়ার নিরাপত্তা বাতাবরণের ওপরও দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে।
