ওঙ্কার ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বড়সড় সাফল্য। আন্তঃরাজ্য মেয়ে পাচারের চক্র ভেঙে দিলেন তদন্তকারীরা। এই চক্রের মাধ্যমে নাবালিকা মেয়েদেরকে ভিন রাজ্যে বিয়ের জন্য টাকার বিনিময়ে পাচার করা হতো বলে অভিযোগ। তদন্তে নেমে ইতিমধ্যে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি অপ্রাপ্তবয়স্ক একজনকেও আটক করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই চক্রটি বিশেষ করে লক্ষ্যবস্তু করত গরীব ও অসহায় মেয়েদের। বাবা-মা নেই এবং আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের মেয়েদেরকেও তারা টার্গেট করত। প্রথমে টাকা বা ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে নাবালিকাদের প্রলোভন দেখাত। তাদের ছবি রাজস্থানে চক্রের পাণ্ডাদের কাছে পাঠাত, এর পর সেই ছবি দেখে দাম নির্ধারণ হতো এবং বিয়ের ব্যবস্থা হতো। ডিসিপি (লখনউ দক্ষিণ) অমিত কুমার আনন্দ বলেন, গত ১২ মে মোহনলালগঞ্জ থানা এলাকার গনিহার গ্রাম থেকে ১৬ এবং ১২ বছর বয়সী দুই নাবালিকা নিখোঁজ হয়। সেই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে এই মামলাটি সামনে আসে। ওই নাবালিকাদের ঠাকুমা একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, এক অপ্রাপ্তবয়স্ক আত্মীয় এবং তার সহযোগী প্রিয়া প্যাটেল, যিনি রায়বেরেলির বাসিন্দা। দুজনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
ডিসিপি জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) প্রাসঙ্গিক ধারায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। মেয়েদের খুঁজে বের করার জন্য সাদা পোশাকে একটি দল-সহ পুলিশের চারটি দল গঠন করা হয়। প্রায় ১৫০টি সিসিটিভি ক্যামেরার রেকর্ডিং খতিয়ে দেখে এবং নজরদারি চালিয়ে ঘটনার কিনারা করে। যদিও নাবালিকাদের মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। অবশেষে গত ১৮ মে মেয়ে দুজনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে নেমে এবং মেয়েদের জবানবন্দি রেকর্ড করার পর পুলিশ জানতে পারে, তাদের বিয়ের জন্য বিক্রি করার উদ্দেশ্যে রাজস্থানের কোটা জেলায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। যে অভিযুক্তদের পাকড়াও করা হয়েছে তারা হল অনুরাগ যাদব (২৫), মহম্মদ আখতার (৩২) এবং প্রিয়া প্যাটেল ওরফে শীলা (২৩)। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েটিকেও আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রিয়া তদন্তকারীদের বলেছে ২০২০ সালে রায়বেরেলিতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে কোটার বাসিন্দা সোনম নামের এক মহিলার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। অভিযোগ, সোনম তাকে বলে রাজস্থানে গরীব পরিবারের সুন্দরী মেয়েদের টাকার বিনিময়ে বিয়ে দেওয়া যায়। এই ধরনের বিয়ের ব্যবস্থা করার জন্য প্রিয়াকেও টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। প্রতিটি মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করার জন্য প্রিয়া ১ লক্ষ থেকে ১.৫ লক্ষ টাকা পেত বলে পুলিশকে জানিয়েছে।