ওঙ্কার ডেস্ক: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে ফের কড়া অবস্থান স্পষ্ট করল কেন্দ্রীয় সরকার। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের মদত অব্যাহত থাকায় সিন্ধু জলচুক্তি আপাতত স্থগিতই থাকবে। পাকিস্তান যতদিন না সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করছে এবং সেই বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ নিচ্ছে, ততদিন এই চুক্তি পুনর্বহালের কোনও সম্ভাবনা নেই বলেই জানানো হয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ভারত বহু বছর ধরে পাকিস্তানের মাটি থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের শিকার হয়েছে। বারবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তন হয়নি। সেই কারণেই দেশের নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, সন্ত্রাস এবং স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক একসঙ্গে চলতে পারে না।
১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু জলচুক্তি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে জলবণ্টন সংক্রান্ত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি। এই চুক্তির আওতায় সিন্ধু নদী এবং তার উপনদীগুলির জল ব্যবহারের ক্ষেত্রে দুই দেশের অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারিত হয়েছিল। কয়েক দশক ধরে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা থাকলেও এই চুক্তি কার্যকর ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ এবং নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে নয়াদিল্লি চুক্তিটি পুনর্বিবেচনার পথে হাঁটে।
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে যেকোনও ধরনের অর্থবহ আলোচনা বা সহযোগিতার জন্য প্রথম শর্ত হল সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ। শুধুমাত্র মৌখিক আশ্বাস নয়, বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমেই পাকিস্তানকে তার অবস্থান প্রমাণ করতে হবে। ভারত মনে করে, প্রতিবেশী দেশের তরফে সন্ত্রাসবাদকে নীরব বা প্রত্যক্ষ সমর্থন দেওয়া চলতে থাকলে পারস্পরিক বিশ্বাস এবং সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি হওয়া সম্ভব নয়।
কূটনৈতিক মহলের মতে, ভারতের এই অবস্থান পাকিস্তানের উপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কারণ, পাকিস্তানের কৃষি, সেচ ব্যবস্থা এবং জলসম্পদের একটি বড় অংশ সিন্ধু নদী ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল। ফলে চুক্তি সংক্রান্ত অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে তার অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাবও পড়তে পারে। তবে ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বিষয়টি কোনওভাবেই জলসম্পদকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের প্রশ্ন নয়; বরং জাতীয় নিরাপত্তা এবং সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত জড়িত।