ওঙ্কার ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরে প্রবল বর্ষণ, মেঘভাঙা বৃষ্টি এবং আকস্মিক বন্যার জেরে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের একাধিক জেলায় প্রবল বৃষ্টির ফলে পাহাড়ি ঢল, ভূমিধস এবং জলবন্দি অবস্থার কারণে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। নিখোঁজদের খোঁজে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে রাজৌরি ও পুঞ্চ জেলায়। রাতভর টানা বৃষ্টির ফলে পাহাড়ি নদী ও নালাগুলিতে আচমকা জলস্তর বেড়ে যায়। সেই জল ঢুকে পড়ে বহু গ্রাম ও জনবসতিতে। প্রবল স্রোতে একাধিক বাড়ি, দোকান, যানবাহন এবং কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক এলাকায় রাস্তা ভেঙে গিয়েছে এবং সেতুরও ক্ষতি হয়েছে। ফলে বহু গ্রাম ও শহরের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের পরিষেবাও ব্যাহত হয়েছে। দুর্যোগের খবর পাওয়ার পরই উদ্ধারকাজে নামে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মীরা। বিপজ্জনক এলাকা থেকে শতাধিক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ত্রাণ শিবিরে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খাদ্য, পানীয় জল, ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এখনও বহু দুর্গম এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, যার ফলে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রবল বৃষ্টির জেরে রাজ্যের বিভিন্ন জাতীয় সড়কে ভূমিধস নেমেছে। অনেক জায়গায় রাস্তার উপর বড় বড় পাথর ও ধ্বংসাবশেষ জমে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। প্রশাসনের তরফে দ্রুত রাস্তা পরিষ্কার করার কাজ শুরু হলেও লাগাতার বৃষ্টির কারণে উদ্ধার ও পুনরুদ্ধারের কাজে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা দিল্লির নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মীরে ফিরে আসেন। তিনি প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে উদ্ধার ও ত্রাণকার্য আরও জোরদার করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির পরিস্থিতির উপর নজর রাখার পাশাপাশি দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের পক্ষ থেকেও রাজ্য প্রশাসনকে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।