ওঙ্কার ডেস্ক: ত্বিশা শর্মা মৃত্যুকাণ্ডে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই নতুন নতুন বিতর্ক সামনে আসছে। মঙ্গলবার মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সমর্থ সিং এবং তাঁর মা, অবসরপ্রাপ্ত বিচারক গিরিবালা সিংকে আদালতে হাজির করানো হলে আদালত চত্বরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আলাদত নির্দেশ অনুযায়ী ১৬ জুন পর্যন্ত মা গিরিবালা এবং ছেলে সমর্থকে পুলিশি হেফাজতে রাখার কথা বলা হয়েছে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গিরিবালা সিং অভিযোগ করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চালানো হচ্ছে এবং তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই জনসমক্ষে তাঁদের অপরাধী হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
গিরিবালা সিং দাবি করেন, আদালত প্রাঙ্গণে তাঁর ছেলে সমর্থ সিংকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক আচরণ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, আদালতে আনা ও নিয়ে যাওয়ার সময় সমর্থের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এবং কিছু ব্যক্তি তাঁর উপর হামলার চেষ্টা করে। এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা রেখে তদন্ত চলতে দেওয়া উচিত, কিন্তু বর্তমানে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে যেখানে অভিযুক্তদের নিজেদের বক্তব্য রাখার সুযোগ পর্যন্ত সঠিকভাবে মিলছে না। তিনি আরও বলেন, সংবাদমাধ্যমের একটি অংশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা মন্তব্য মামলার প্রকৃত তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারে। তাঁর মতে, আদালতের রায় ঘোষণার আগেই যেভাবে তাঁদের পরিবারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে, তা ন্যায়বিচারের মূল নীতির পরিপন্থী।
এদিকে ত্বিশা শর্মা মৃত্যুর ঘটনায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই তদন্ত জোরদার করেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে সম্প্রতি ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণ প্রক্রিয়া চালানো হয়। তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের বয়ানের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করেটুইশাকে কী অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল এবং তাঁর দেহ নামানোর বিষয়ে পরিবারের দাবি কতটা সত্য, তা যাচাই করতে একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ত্বিশা শর্মা অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে পণ-নির্যাতন, মানসিক অত্যাচার এবং প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ আনা হয়। ঘটনার গুরুত্ব এবং দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়নের কারণে মামলাটি সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তদন্ত চলাকালীন গিরিবালা সিং ও সমর্থ সিংকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁরা বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।