ওঙ্কার ডেস্ক: উৎসবের মরসুমে ঘুড়ির সুতো প্রাণ কাড়ল। কর্নাটকে ঘুড়ির সুতোয় গলা কেটে গিয়ে প্রাণ গেল এক বাইকচালকের। সে রাজ্যের বিদর জেলায় এই ঘটনা ঘটেছে। মৃত ব্যক্তির বয়স ৪৮ বছর বলে জানা গিয়েছে।
রিপোর্ট অনুসারে মৃত ব্যক্তির নাম সঞ্জুকুমার হোসামানি। তিনি কর্নাটকের বিদর জেলার তালামাদাগি সেতুর কাছে একটি রাস্তা দিয়ে বাইকে চেপে যাচ্ছিলেন। সেই রাস্তার উপর টানটান করে বাঁধা ছিল একটি ঘুড়ির সুতো। সেই সুতো গলায় আটকে গিয়ে গভীর ভাবে কেটে যায়। জখম হওয়ার পর রক্তারক্তি অবস্থা হয়। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় ওই ব্যক্তির। বাইক থেকে পড়ে যাওয়ার পর কোনও ভাবে তিনি মেয়েকে ফোন করার চেষ্টা করেন। এমন মর্মান্তিক ঘটনার পর স্থানীয় পথচারীরা থমকে দাঁড়ান। কয়েক জন এসে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ডাকে। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছনোর আগেই হোসামানির মৃত্যু হয়। ওই বাইকচালকের পরিবারের লোকজন স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। অ্যাম্বুলেন্স সময়মতো পৌঁছালে হোসামানি হয়তো বেঁচে যেতেন বলে দাবি তাঁদের। এই ঘটনার পর হোসামানির আত্মীয়স্বজন এবং স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখায়। ঘুড়ি ওড়ানোর জন্য নাইলনের সুতো ব্যবহার বন্ধের দাবি জানান তাঁরা। ইতিমধ্যে গোটা ঘটনার কথা জানিয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে মান্না একহেল্লি থানায়। অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, মকর সংক্রান্তির সময় ঘুড়ি ওড়ানো দেশের অনেক অঞ্চলের ঐতিহ্য। আগে ঘুড়ি ওড়ানোর জন্য গুঁড়ো কাঁচের প্রলেপ দেওয়া সুতির সুতো ব্যবহার করা হতো। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই সুতোর বদলে নাইলনের সুতো ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে নাইলনের সুতো বিপদ বাড়িয়েছে। এটি ত্বক কেটে ফেলে গুরুতর আঘাতের কারণ হয়। বহু ক্ষেত্রে মৃত্যু হয়। সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে পড়েন বাইক আরোহীরা।
