ওঙ্কার ডেস্ক: স্ত্রী ও ছেলেকে খুনের পর আত্মহত্যা করলেন কর্নাটকের এক ব্যবসায়ী। সে রাজ্যের মান্ড্য জেলায় এই ঘটনা ঘটেছে। ৬৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি একটি সুইসাইড নোটও রেখে গিয়েছেন। তাতে বলা হয়েছে, বাড়তে থাকা ঋণ এবং ব্যবসার মন্দার কারণে তিনি চরম আর্থিক সঙ্কটের মুখে পড়েছিলেন। আর তার জেরে এই চরম পদক্ষেপ নিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম প্রভাকর। মান্ড্য শহরে ‘কামধেনু কল্পবৃক্ষ’ নামে তাঁর একটি পোশাকের দোকান আছে। ৯ জুন ভোর সাড়ে ৩টে নাগাদ তিনি ধুতি দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাঁর ৫৫ বছর বয়সী স্ত্রী জ্যোতিকে হত্যা করেন। সেই সময় তাঁদের ৩০ বছর বয়সী ছেলে জেপি সন্তোষ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকেও খুন করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এর পর প্রভাকর বাড়ির দরজা বন্ধ করে কাছেই নিজের দোকানে গিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এই ঘটনায় মান্ড্য এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আর্থিক সঙ্কট নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, প্রভাকরের পরিবার একসময় মান্ড্যতে নাম করা ‘কামধেনু বস্ত্রালয়’ চালাত। কিন্তু প্রায় পাঁচ বছর আগে পারিবারিক সেই ব্যবসা ভাগ হয়ে যায়। এরপর প্রভাকর ‘কামধেনু কল্পবৃক্ষ’ নামে নিজে আলাদা দোকান করেন। জানা গেছে, ব্যবসা চালানোর জন্য তিনি ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়েছিলেন।
সুইসাইড নোটে প্রভাকর দাবি করেছেন, কর্নাটকের ‘শক্তি’প্রকল্পে মহিলারা বিনামূল্যে বাসে যাতায়াত করার সুযোগ পান। এর ফলে তাঁর ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়। কারণ হিসেবে ওই ব্যবসায়ী দাবি করেছেন, যাতায়াত সহজ ও সাশ্রয়ী হওয়ায় মান্ড্যর মহিলারা মাইসুরু ও বেঙ্গালুরুর মতো বড় শহরে যাচ্ছেন। যেখানে অনেক বেশি দোকান ও বাজার রয়েছে। ফলে তাঁর দোকানে মহিলা ক্রেতারা আর আসছেন না। যদিও সুইসাইড নোটে লেখা বয়ান খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সূত্রের খবর, প্রভাকরের ছেলে সন্তোষ মাত্র ছয় সপ্তাহ আগেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। ২৭ বছর বয়সী তরুণী মেঘনার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। ঘটনার সময় অন্য ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন মেঘনা। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, রাতে যখন এই হত্যাকাণ্ড হয় তিনি তা টের পাননি। তাঁর স্বামী কখন ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তাঁর দাবি, ভোর ৬টা নাগাদ ঘুম থেকে উঠে সকালের খাবারের আয়োজনের তোড়জোড় শুরু করেন। সেই সময় শাশুড়িকে ডাকতে যান। ঘরে ঢুকে তিনি স্বামী ও শাশুড়ির দেহ দেখতে পান। এর পর প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানান। তদন্তকারীরা বোঝার চেষ্টা করছেন, প্রভাকর কীভাবে তাঁর স্ত্রী ও প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে কাবু করতে সক্ষম হলেন।