বাংলায় গেরুয়া ঝড়ে কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছে তৃণমূল। দলে ভাঙনের পর ভাঙন। দুর্দিনে কংগ্রেসকে আঁকড়ে ধরতে চাইছেন মমতা- অভিষেক। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনার ঝড়! প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচাতে কি ২৮ বছর পর আবার হাত শিবিরে ফিরতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মহলে এমনই নানা গুঞ্জন ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পর এই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।
বাংলায় পালাবদলের একমাসের মধ্যেই ঘাসফুলের ভগ্নপ্রায় দশা। তৃণমূলের মাটি শুকিয়ে চৌচির। দলের চুনোপুঁটি থেকে রাঘব বোয়াল, বাকি নেই কেউ। বিজেপির ভালো তৃণমূল, বিদ্রোহী তৃণমূল, মোটামুটি সব মিলে মিশে একাকার। আমি শুধু রইনু বাকি অবস্থা মমতার। ঠিক এই আবহের মধ্যেই দিল্লিতে চড়চড় করে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। দফায় দফায় বৈঠক করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোনিয়া গান্ধী। বুধবার অভিষেকও দেখা করেছেন রাহুল গান্ধীর সঙ্গে। সব মিলিয়ে বাংলার রাজনীতিতে টান টান উত্তেজনা। তবে কি ২৮ বছর পর আবার ঘরে ফিরবেন ঘরের মেয়ে! কংগ্রেসে ফিরবেন মমতা? যদি যান, তবে তাদের রাজনৈতিক অবস্থানই বা কী হবে?
কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মমতা অভিষেকের বৈঠকের পর নতুন করে বাংলা তথা দেশের রাজনীতিতে জল্পনার ঝড়। সূত্রের খবর, কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সনিয়া গান্ধী এই প্রস্তাব দিয়েছেন। রাজনৈতিক সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পরই নাকি তাঁকে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও এই দাবির পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি ঘোষণা বা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মেলেনি।
রাজীব গান্ধীর অত্যন্ত প্রিয়পাত্রী ছিলেন মমতা। সেই সূত্র ধরেই সোনিয়ার সঙ্গে মমতার রসায়ন বরাবরই ভাল। ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল গড়লেও গান্ধী পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভেঙে যায়নি। তারপর নদী দিয়ে বহু জল বয়েছে। ১৫ বছর বাংলার ক্ষমতায় ছিল তৃণমূল। জাতীয় রাজনীতির বিভিন্ন ইস্যুতে রাহুলের সঙ্গে মমতার মতপার্থক্য সামনে এসেছে। কিন্তু সোনিয়া-মমতা সম্পর্কে প্রকাশ্যে তার কোনও প্রভাব পড়েনি। ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ভেঙেই তৃণমূল গঠন করেছিলেন মমতা। ঠিক ২৮ বছর পর সময়ের পরিহাসে সেই মমতাই রাজনীতিতে নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচাতে কংগ্রেসের শরণাপন্ন হবেন? প্রশ্ন থাকছেই।