ওঙ্কার ডেস্ক: লিপস্টিক নিয়ে আর স্কুলে যাওয়া যাবে না, হ্যাঁ ঠিকই পড়েছেন মারণরোগ ক্যান্সার থেকে পড়ুয়াদের বাঁচাতে এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেরলের একাধিক স্কুল। সে রাজ্যের কোল্লামের শিশু কল্যাণ সমিতি স্কুল থেকে প্রসাধনী সামগ্রী বর্জনের লক্ষ্যে প্রচার অভিযান শুরু করেছে। মূলত স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা মাথায় রেখে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
রিপোর্ট অনুসারে, স্বাস্থ্য দফতরের সতর্কবার্তার ভিত্তিতে এই প্রচার অভিযান শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রসাধনী সামগ্রীতে সাধারণত পারদ ও ক্যাডমিয়ামের মতো বিষাক্ত ভারী ধাতু থাকে। এগুলো শিশুদের শরীরে প্রবেশ করলে দেহের গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর ক্ষতি হয়। যেহেতু প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের ত্বক পাতলা ও বেশি সংবেদনশীল, সে কারণে তাদের শরীর রাসায়নিক উপাদান দ্রুত শোষণ করে। ফলে একই পণ্য ব্যবহার করলেও প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুরা অনেক বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে।
তিরুবনন্তপুরমের রিজিওনাল ক্যান্সার সেন্টারের একটি গবেষণা প্রকাশ্যে আসতে এ বিষয়ে চর্চা শুরু হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, কোল্লাম, এর্নাকুলাম ও কোঝিকোড় জেলায় শিশুদের মধ্যে অন্ত্রের ক্যান্সারের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গিয়েছে। শিক্ষকরাও লক্ষ্য করেন, বহু পড়ুয়া স্কুলে লিপস্টিক ও মেকআপ নিয়ে আসছে এবং ক্লাসের মাঝে তা ব্যবহারও করছে। কোল্লামের মায়ানাদ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে আনুষ্ঠানিকভাবে লিপস্টিক বিরোধী এই প্রচার অভিযান শুরু করা হয়। এর সূচনা করেন কবি কুরিফুঝা শ্রীকুমার। বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন প্রসাধনী অর্থাৎ লিপস্টিক, আইলাইনার, আইশ্যাডো, ব্লাশার এবং ফেস ক্রিম ব্যবহারের ফলে এর মধ্যে থাকা ভারী ধাতু ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। পাশাপাশি অ্যালার্জি, হরমোনের ভারসাম্যহীনতাও দেখা দিতে পারে। গত বছর, সে রাজ্যের ড্রাগস কন্ট্রোল বিভাগ বেশ কিছু লিপস্টিক ও ফেস ক্রিম বাজেয়াপ্ত করেছিল। যাতে অতিরিক্তি মাত্রায় পারদ পাওয়া গিয়েছিল।