ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান টানাপোড়েনের আবহে হঠাৎ করেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই। এতদিন পর্যন্ত রাজনৈতিক মহলের বড় অংশের কাছেই কার্যত অচেনা ছিল এই দল। সামাজিক মাধ্যমেও তাদের উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত সীমিত। ফেসবুকে দলটির অনুসরণকারীর সংখ্যা মাত্র প্রায় ১,৭০০। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণের জেরে এক লাফে জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় উঠে এসেছে এই সংগঠন।
সূত্রের খবর, তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সাংসদদের একাংশ নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এনসিপিআইকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই কারণেই হঠাৎ করে দলটির গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিকভাবে খুব বেশি শক্তিশালী না হলেও বর্তমানে সংসদীয় রাজনীতির সমীকরণে এনসিপি আই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে গঠিত এই দলটির মূল কার্যক্রম ত্রিপুরাকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হলেও নির্বাচন কমিশনের নথিতে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার একটি ঠিকানা তাদের নিবন্ধিত কার্যালয় হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। জাতীয় বা রাজ্যস্তরের বড় কোনও নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য না পাওয়ায় এতদিন দলটি জনচর্চার বাইরে ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্রোহী সাংসদদের সম্ভাব্য আশ্রয়স্থল হিসেবে উঠে আসায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, সরাসরি অন্য কোনও বড় দলে যোগ দিলে দলত্যাগ বিরোধী আইনের নানা জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে বিদ্রোহী সাংসদদের। সেই কারণে একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একীভূত হওয়ার পথকে অনেক বেশি নিরাপদ এবং কৌশলগত বলে মনে করা হচ্ছে। এনসিপিআইকে বেছে নেওয়ার পিছনে সেই রাজনৈতিক হিসাবই কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংকট, সাংসদদের একাংশের অসন্তোষ এবং নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের সম্ভাবনা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তবে এই রাজনৈতিক রদবদলের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। সাংসদদের অবস্থান, দলত্যাগ বিরোধী আইনের ব্যাখ্যা, লোকসভার স্পিকারের সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচন কমিশনের অবস্থানের উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। তবুও মাত্র কয়েক হাজার সামাজিক মাধ্যম অনুসরণকারী নিয়ে চলা একটি অপেক্ষাকৃত অচেনা রাজনৈতিক দল যে এক ঝটকায় জাতীয় রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসতে পারে, এনসিপিআইকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনে দিয়েছে।