ওঙ্কার ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের একবার বড়সড় রাজনৈতিক অস্থিরতার ইঙ্গিত মিলছে। উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা (ইউবিটি)-কে ঘিরে নতুন করে ভাঙনের জল্পনা শুরু হয়েছে। দলের একাধিক লোকসভা সাংসদের সঙ্গে হঠাৎ করেই যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে খবর সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
শিবসেনা (ইউবিটি)-র রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় রাউত অভিযোগ করেছেন, দলের কয়েকজন সাংসদকে শিবির বদলের জন্য বিপুল অঙ্কের অর্থের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, সাংসদদের ১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অগ্রিম দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে আরও বড় আর্থিক সুবিধার আশ্বাসও রয়েছে। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি এবং শিন্ডে শিবিরও অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
রাজনৈতিক মহলে যাঁদের নাম নিয়ে জোর জল্পনা চলছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নাসিকের সাংসদ রাজাভাউ ওয়াজে, ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের সাংসদ চন্দ্রকান্ত খৈরে ঘনিষ্ঠ কয়েকজন নেতা এবং উত্তর-পশ্চিম মুম্বইয়ের সাংসদ রবীন্দ্র ওয়াইকরকে ঘিরেও আলোচনা শুরু হয়েছে। এছাড়া কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শিবসেনা (ইউবিটি)-র অন্তত ছয় থেকে সাতজন সাংসদ দিল্লিতে একনাথ শিন্ডের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। যদিও তাঁদের অধিকাংশই প্রকাশ্যে দলত্যাগের কথা অস্বীকার করেছেন।
রাজনৈতিক সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, দিল্লিতে অবস্থানরত কয়েকজন সাংসদের মধ্যে আলোচনা চলছে লোকসভায় পৃথক গোষ্ঠী গঠনের সম্ভাবনা নিয়েও। এই পরিস্থিতিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সম্ভাব্য সাক্ষাতের জল্পনাও তৈরি হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বে শিবসেনায় ঐতিহাসিক ভাঙনের পর উদ্ধব ঠাকরের দল বড় ধাক্কার মুখে পড়েছিল। দলের অধিকাংশ বিধায়ক শিন্ডে শিবিরে চলে যাওয়ার পর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে নতুন করে লড়াই শুরু করতে হয় উদ্ধব ঠাকরেকে। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন শিবসেনার নাম ও প্রতীক শিন্ডে গোষ্ঠীর হাতে তুলে দিলে সেই সংকট আরও গভীর হয়। তবে লোকসভা নির্বাচনে শিবসেনা (ইউবিটি) উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাওয়ায় দলের মনোবল কিছুটা বাড়ে।
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের পর উদ্ধব ঠাকরে দলের সাংসদদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন বলে জানা গিয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের দাবি, অধিকাংশ সাংসদ এখনও উদ্ধব ঠাকরের পাশেই রয়েছেন এবং ভাঙনের জল্পনা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অন্যদিকে শিন্ডে শিবির এই পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামী কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহই স্পষ্ট করে দেবে জল্পনার পিছনে কতটা সত্যতা রয়েছে।