ওঙ্কার ডেস্ক: বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরেই শুরু হয়ে গেছে গোষ্ঠী কোন্দল। একাধিক নেতা থেকে মন্ত্রীরা কার্যত দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে দল ছেড়েছেন। কেবল মাত্র দল নয়, সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও বেড়েছে সম্পর্কের ফাটল। কেউ বিদ্রোহ ঘোষণা করে দল ছেড়েছেন, কেউ পদ, কেউ আবার আসল তৃণমূলের দাবিদার। একের পর এক নেতা জেলে, কাউন্সিলরের বাড়িতে ইডি-সিবিআই, ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। এই পরিস্থিতিতে আবারও ধাক্কা খেলেন তাঁরা।
এরই মাঝে একদা মমতা ব্যানার্জি-র স্নেহ ধন্য ছিলেন মন্টু সাহা। এবার সেই মন্টু সাহা বেঁকে বসলেন। মে মাসেই খালি করতে বলেছিলেন মেট্রোপলিটন দুর্গা বাড়ির পাশে তৃণমূলের পার্টি অফিস। ওটা তাঁর বাড়ি, এতদিন সেখানেই তৃণমূলের কিছু অংশের দলীয় কাজকর্ম চলত। সে বাড়িতে এ কাজের জন্য কোনও ভাড়া ধার্য করা হত কিনা তা জানা যায়নি কিন্তু রাজ্যে বদলের পর বাড়ি খালি করার নোটিশ ধরান মন্টু সাহা। সময় দেওয়া হয় দু’মাস। এক সময় তৃণমূলের যেকোনও অনুষ্ঠানে তিনিই মাইক-চেয়ার অর্থাৎ ডেকোরেটিংয়ের সমস্ত জিনিসপত্র দিতেন, হঠাৎ সে-ও বন্ধ করে দেন। ফলে দূরত্ব যে বাড়ছে তা স্পষ্ট ছিল। দ্য ওয়াল এনিয়ে খবর করে মে মাসেই। কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল, দু’মাস হাতে থাকলেও ওই বাড়ি খালি করা হতে পারে শীঘ্রই। সে জল্পনা সত্যি করে মঙ্গলবার রাতে খালি করা হল তৃণমূলের ওই ভবনটি। বাইপাস ধাবার পিছনের ওই বাড়ির দু’টি ফ্লোর চুক্তির বাইরে ছিল, আপাতত সে দু’টি খালি করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তিন ও চার তলার কার্যালয়ে ঝোলানো হয়েছে তালা। বের করে দেওয়া হয় আসবাবপত্র। তালাবন্ধ দু’টি ফ্লোর দখলমুক্ত করার দাবিতে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে মালিকপক্ষ। তারা আশাবাদী, সবুজ শিবির দ্রুত পদক্ষেপ করবে। এই বিষয়ে মালিক পক্ষের একজন সংবাদ মাধ্যমের কাছে জানান, ‘এতদিন কেবলমাত্র এক তলা ব্যবহার করার অনুমতি থাকলেও আগের তৃণমূল সরকার জোরপূর্বক বাড়ির আরেকটি তলা ব্যবহার করত।‘’ উল্লেখ্য, ঘটনার সুত্রপাত ২০২১ সালে বিধান সভা নির্বাচনের পরে। যেই সময় তৃণমূলের সেনাপতি অভিষেক ব্যানার্জি নিজেদের পার্টি অফিস কে কর্পোরেট স্টাইলে তৈরি করার জন্য ব্যবহার করেন। সেই সময় মন্টু সাহার বাড়িকে পার্টি অফিস-র মত ব্যবহার করার সিধান্ত নেন। এখন যদিও কোনও কিছু নিয়ে বলতে নারাজ মনোতোষ সাহা।