ওঙ্কার ডেস্ক: দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশে বক্তব্য রাখার সুযোগ না পাওয়া নিয়ে মহারাষ্ট্রের শরিকদের অসন্তোষ দূর করতে উদ্যোগী হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সকালে শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তৃণমূল নেত্রী। সময়ের অভাবে শিবসেনার প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখতে না পারায় যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা মেটানোর আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। সূত্রের খবর, বিষয়টি সংশোধনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন মমতা। জোটের শরিকদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে নিয়মিত তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেও জানা গিয়েছে।
রবিবারের সমাবেশে বক্তৃতার সুযোগ না পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ শুধু শিবসেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। মহারাষ্ট্রের বিরোধী শিবিরেও এই ঘটনা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। শিবসেনা (ইউবিটি)-র নেতা সঞ্জয় রাউত বক্তব্য রাখার সুযোগ পাননি। একই পরিস্থিতির মুখে পড়েন এনসিপি (শরদ পাওয়ার)-এর সুপ্রিয়া সুলেও। অন্যদিকে, সিপিআইএমএল লিবারেশনের দুই প্রতিনিধিকে বক্তৃতা করার সুযোগ দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জোটের মঞ্চে বিভিন্ন শরিকের গুরুত্ব কতটা, সেই বিতর্ক আবার সামনে এসেছে। মমতার হস্তক্ষেপের রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। কারণ, মহারাষ্ট্রে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা এবং শরদ পাওয়ারের এনসিপি ইন্ডিয়া জোটের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাঁদের অসন্তোষ বিরোধী জোটের সামগ্রিক ঐক্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
২০ নভেম্বরের পর দেশজুড়ে নতুন কর্মসূচি শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে ইন্ডিয়া জোটের। পরবর্তী জনসভা হায়দরাবাদে হতে পারে বলে আলোচনা চলছে। শরিকদের সঙ্গে পরামর্শ করেই পরবর্তী কর্মসূচির পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। এদিকে, সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেছেন অজিত পাওয়ার শিবিরের কয়েকজন প্রবীণ নেতা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রফুল্ল প্যাটেল, সুনীল তটকরে এবং ছগন ভুজবল। এই বৈঠক ঘিরে এনসিপির দুই শিবিরের পুনর্মিলন এবং এনডিএ-র রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও দলের তরফে অভ্যন্তরীণ বিরোধের খবর অস্বীকার করা হয়েছে।