ওঙ্কার ডেস্ক: পুলিশ হেফাজতে অত্যাচারের ফলে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ২৫ বছর বয়সী ওই যুবককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। এক মাস পর তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। ঘটনাটি ঘটেছে অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়ওয়াড়ায়। ওই যুবকের পরিবারের অভিযোগ, পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের ফলে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। শুধু তাই নয়, খুনের পর তাঁর দেহ গোপনে সৎকার করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।
নিখোঁজ যুবকের নাম গাডে সাই কৃষ্ণা। যে পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁর নাম সুদা সুরেশ ভিরা ভেঙ্কটা (এসএসভিভি) নাগারাজু। ৫৩ বছর বয়সী ওই আধিকারিক সার্কেল ইন্সপেক্টর হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ সামনে আসার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে চাকরি থেকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, ৯ মে থেকে সাই কৃষ্ণা নিখোঁজ। তাঁর মা গাডে বিজয়া লক্ষ্মীর অভিযোগ, কৃষ্ণালাঙ্কা পুলিশ মারকাপুরাম থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। তার পর থেকে আর ফিরে আসেননি ওই যুবক। এফআইআর অনুযায়ী, ৬ মে সাই কৃষ্ণা ও তাঁর মোবাইল ফোনটি ওই ইন্সপেক্টরের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে আদালতে হাজির করার বদলে, বেআইনিভাবে থানার হাজতে আটকে রাখা হয়েছিল। রিপোর্ট অনুসারে, সাই কৃষ্ণার বিরুদ্ধে দুটি পুরোনো মামলায় জামিন-অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল।
লক্ষ্মীর অভিযোগ, ছেলের খোঁজে থানায় গেলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁর সম্পর্কে কোনও তথ্যও দেওয়া হয়নি। লক-আপের ভেতরে ছেলেকে অচেতন অবস্থায় দেখেছিলেন বলেও লক্ষ্মী জানান। সেই সময় তাঁর ছেলের পা বাঁধা ছিল এবং আর্তনাদ করছিলেন বলে জানান তিনি। পরবর্তীতে অন্ধ্র প্রদেশ হাইকোর্টে একটি ‘হেবিয়াস কর্পাস’ দায়ের করেন লক্ষ্মী। ১৯ জুন হাইকোর্ট পুলিশকে নির্দেশ দেয় সাই কৃষ্ণাকে খুঁজে বের করে আদালতে হাজির করতে। শুনানি চলাকালে সাই কৃষ্ণার আইনজীবী বলেন, পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এই ঘটনার তদন্ত করছে আইজিপি (আইন-শৃঙ্খলা) এম রবি প্রকাশের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সাই কৃষ্ণকে বেআইনিভাবে আটকে রেখে হেফাজতে নির্যাতন করা হয়েছিল। ৬ থেকে ৮ মে-র মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়।