ওঙ্কার ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে ৫৮ নম্বর জাতীয় সড়কে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে ৩৫ বছর বয়সী রাহুল চৌধুরী নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে। জানা গিয়েছে শুক্রবার রাতে ঐ এলাকায় একটি ধাবার সামনে রাহুলকে তিনজন দুস্কৃতি পাঁচটি গুলি ফায়ার করে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। অবাক করা ব্যাপার হল শরীরের গুরুত্বপুর্ন অঙ্গে পাঁচটি গুলি লাগার পরও আহত ব্যাক্তি নিজেই গাড়ি চালিয়ে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে একটি হাসপাতালে যায়। হাসপাতাল চত্ত্বরে ঢুকে জ্ঞান হারায় ঐ ব্যাক্তি। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন রাহুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও কিছু সময়ের মধ্যেই স্থিতিশীল অবস্থায় আসবেন তিনি।
পুলিশি সুত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে একটি ধাবার সামনে গাড়ি থামানোর পরই বাইকে করে আসা কয়েকজন দুষ্কৃতী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। একের পর এক গুলি তার গলা, বুক, পেট, হাত ও পায়ে লাগে। মোট পাঁচটি গুলি শরীরে বিদ্ধ হয় বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে যান, কিন্তু সেখানেই ভেঙে পড়েননি। প্রবল যন্ত্রণা ও রক্তক্ষরণ সত্ত্বেও তিনি নিজের গাড়ির স্টিয়ারিং ধরেন এবং সোজা জাতীয় সড়ক ধরে হাসপাতালে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রায় ২৫ কিলোমিটার পথ তিনি একাই গাড়ি চালিয়ে অতিক্রম করেন। হাসপাতালের গেট পর্যন্ত নিজেই গাড়ি নিয়ে পৌঁছনোর পর গাড়ি থেকে নামতেই অচৈতন্য হয়ে পড়েন তিনি।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পরই দ্রুত তাকে ভর্তি করা হয় এবং জরুরি অস্ত্রোপচার করে শরীর থেকে গুলিগুলি বের করা হয়। বর্তমানে তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের মতে, তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক হলেও ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই হামলার পিছনে ব্যক্তিগত শত্রুতা বা তোলাবাজি সংক্রান্ত কোনও পুরনো বিবাদ জড়িত থাকতে পারে। জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তি আগে তোলাবাজির মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন। ঘটনার দিন তাকে ফোন করে ওই ধাবায় ডাকা হয়েছিল বলেও পরিবারের দাবি। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে এবং দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। পুরো ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।