ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ফোন করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা বললেন। শনিবারের এই ফোনালাপে ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও মজবুত করার পাশাপাশি বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে মতবিনিময় করেন দুই নেতা। ফোনালাপে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে সামগ্রিক সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের মধ্যে ভারত ও আমেরিকার পারস্পরিক সহযোগিতা কী ভাবে আরও বাড়ানো যায়, তা নিয়েও দুই নেতার মধ্যে কথা হয়।
এই ফনালাপে বাণিজ্য ছিল আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে শুল্ক, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং বাণিজ্য ভারসাম্য নিয়ে একাধিক বিষয়ে আলোচনা চলছে। এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও স্থিতিশীল ও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মোদি এবং ভ্যান্সের কথোপকথন তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র খুঁজে বের করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও ভারত-মার্কিন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গত কয়েক বছরে সামরিক মহড়া, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। সেই সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা নিয়েও দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রযুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ ও উদীয়মান প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর-সহ ভবিষ্যৎ অর্থনীতি ও নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত ও আমেরিকার যৌথ কাজের সুযোগ রয়েছে। সেই ক্ষেত্রগুলিতে দুই দেশের অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি ফোনালাপে গুরুত্ব পেয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আধুনিক শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির জন্য লিথিয়াম, কোবাল্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি নিরাপত্তাও দুই দেশের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে এই দুই ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও কথা হয়েছে। ফোনালাপে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির কথাও উঠে আসে। বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে ভারত ও আমেরিকার সহযোগিতা কী ভাবে আরও কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে মতবিনিময় করেন মোদি ও ভ্যান্স। দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এ দিনের কথোপকথনে সৌজন্যের বিষয়টিও বিশেষ ভাবে উঠে এসেছে। জে ডি ভ্যান্স এবং তাঁর স্ত্রী উষা ভ্যান্সের সদ্যোজাত পুত্রসন্তানের জন্মের জন্য তাঁদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। নবজাতক ও ভ্যান্স পরিবারের জন্য শুভেচ্ছাও জানান তিনি। ফলে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সৌজন্যও বজায় ছিল দুই নেতার কথোপকথনে।