ওঙ্কার ডেস্ক: ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া দ্বিপাক্ষিক বানিজ্য চুক্তির পর দুই দেশের বানিজ্যে বরসড় প্রভাব ফেলতে চলেছে তা নিশ্চিত। সাম্প্রতিক আলোচনার পর দুই দেশ একটি বাণিজ্যিক কাঠামোতে সম্মত হয়েছে, যার লক্ষ্য শুল্ক কমানো, বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করা। এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক মহলে আশাবাদের সুর শোনা যাচ্ছে। এবার এই চুক্তি নিয়ে সরব হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে দুই দেশের মধ্যকার সুসম্পর্কের কথা নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই চুক্তিকে দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বিশ্বাস, গভীরতা ও গতিশীলতার প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই সমঝোতা শুধু বাণিজ্যের ক্ষেত্রেই নয়, কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন দিশা দেখাবে। একই সঙ্গে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত অঙ্গীকার ও সক্রিয় ভূমিকাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, যা এই আলোচনাকে সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
চুক্তির আওতায় বেশ কিছু ভারতীয় পণ্যের উপর মার্কিন শুল্কহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে, ফলে ভারতের রপ্তানিকারকদের জন্য মার্কিন বাজারে প্রবেশের পথ সহজ হবে। কৃষিজাত পণ্য, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, স্টার্ট-আপ এবং প্রযুক্তি খাতের ব্যবসায়ীরা এর ফলে বিশেষভাবে উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভারতও নির্দিষ্ট কিছু মার্কিন পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক ও বিধিনিষেধ শিথিল করতে সম্মত হয়েছে, যা দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হবে।
সরকারি সূত্রের মতে, এই অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি ভবিষ্যতে একটি পূর্ণাঙ্গ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগ আরও গতি পাবে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, এই সমঝোতাকে ভারত-মার্কিন অর্থনৈতিক সম্পর্কের এক নতুন মাইলফলক, যা দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বকে আরও সুসংহত করবে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় উভয় দেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।
