ওঙ্কার ডেস্ক: ওড়িশার রাজধানী ভুবনেশ্বরে এক চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস ঘটনার জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক রেলওয়ে পুলিশ কনস্টেবলকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জনতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে ভুবনেশ্বরের বালিয়ান্তা থানার অন্তর্গত এলাকায়, যেখানে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তকে নির্মমভাবে প্রহার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত কনস্টেবলের নাম সৌম্যরঞ্জন স্বাঁই। তিনি রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনীর কর্মী ছিলেন। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকালে এক বন্ধুর সঙ্গে বাইকে করে যাওয়ার সময় তিনি স্কুটিতে থাকা দুই তরুণীর পথরোধ করেন এবং তাঁদের উদ্দেশ্যে অশালীন আচরণ করেন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন অভিযোগ ওঠে, তাঁদের মধ্যে এক তরুণীকে জোর করে যৌন নিগ্রহের চেষ্টা করা হয়। আক্রান্ত তরুণীদের চিৎকারে আশপাশের মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত কনস্টেবলকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এরপর জনতার রোষ চরমে পৌঁছায়। অভিযোগ, তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়, হাত-পা বেঁধে অপমানজনকভাবে এলাকায় ঘোরানো হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে গুরুতর জখম অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনার একাধিক ভিডিও ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা গিয়েছে উত্তেজিত জনতার হিংস্রতা। এই ভিডিও সামনে আসতেই দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। একদিকে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, অন্যদিকে বিচারবহির্ভূত গণপিটুনির প্রবণতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ওড়িশা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে ধর্ষণচেষ্টার বিষয়টি যেমন খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তেমনই গণপিটুনিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও কড়া আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং ভাইরাল ভিডিওর সূত্র ধরে আরও অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
মৃত কনস্টেবলের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সময়মতো পুলিশ হস্তক্ষেপ করলে এবং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা হলে তাঁর প্রাণ বাঁচানো যেত। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে।