ওঙ্কার ডেস্ক: অসমে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত মামলায় ফের এক গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল গৌহাটি হাইকোর্ট। ১৫টি সরকারি নথি পেশ করেও ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ায় এক ব্যক্তিকে ‘বিদেশি’ হিসেবেই বহাল রাখল আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ, শুধুমাত্র একাধিক নথি জমা দিলেই নাগরিকত্ব প্রমানিত হয় না। প্রতিটি নথির আইনি গ্রহণযোগ্যতা, নির্ভরযোগ্যতা এবং আবেদনকারীর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে সুস্পষ্ট ও ধারাবাহিক যোগসূত্র প্রমাণ করাই এ ধরনের মামলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
মামলার আবেদনকারী অসমের বাসিন্দা। এর আগে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল তাঁকে বিদেশি বলে ঘোষণা করেছিল। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি গৌহাটি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালতে নিজের দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি মোট ১৫টি নথি জমা দেন। এর মধ্যে ছিল ১৯৫১ সালের জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি)-র তথ্য, বিভিন্ন বছরের ভোটার তালিকা, স্কুলের শংসাপত্র, ভোটার পরিচয়পত্র, প্যান কার্ড এবং অন্যান্য সরকারি নথি। এছাড়াও নিজের দাবির সমর্থনে মৌখিক সাক্ষ্যও পেশ করা হয়। আবেদনকারীর দাবি ছিল, তাঁর পরিবারের পূর্বপুরুষদের নাম বহু পুরনো সরকারি নথিতে রয়েছে। নদীভাঙন ও স্থান পরিবর্তনের কারণে তাঁদের পরিবার একাধিকবার বসবাসের জায়গা বদল করতে বাধ্য হয়েছিল। সেই কারণেই বিভিন্ন নথিতে ঠিকানা বা নামের বানানে কিছু অমিল দেখা গিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের সামান্য অসঙ্গতির ভিত্তিতে তাঁকে বিদেশি ঘোষণা করা উচিত নয়।
মামলার শুনানিতে আদালত আবেদনকারীর পেশ করা নথিগুলি খতিয়ে দেখে একাধিক অসঙ্গতির কথা উল্লেখ করে। বিভিন্ন সময়ের ভোটার তালিকায় পরিবারের সদস্যদের নাম, বয়স এবং পারিবারিক সম্পর্কের বিবরণে উল্লেখযোগ্য অমিল ধরা পড়ে। কোথাও বয়সের ব্যবধান অস্বাভাবিক, কোথাও আবার পারিবারিক পরিচয় বা বংশপরিচয়ের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ স্পষ্ট নয়। আদালতের মতে, এই অসঙ্গতিগুলি আবেদনকারীর দাবিকে দুর্বল করে দেয় এবং নাগরিকত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রে সন্দেহের অবকাশ তৈরি করে। ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানায়, ভোটার পরিচয়পত্র, প্যান কার্ড, স্কুলের শংসাপত্র বা অন্যান্য পরিচয়পত্র কোনওটিই এককভাবে ভারতীয় নাগরিকত্বের অকাট্য প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা যায় না। নাগরিকত্ব সংক্রান্ত মামলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আবেদনকারী তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে বৈধ ও ধারাবাহিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে পারছেন কি না। আদালত আরও জানায়, ফরেনার্স অ্যাক্ট, ১৯৪৬-এর ৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি যে ভারতীয় নাগরিক, তা প্রমাণ করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপরই বর্তায়। অর্থাৎ, রাষ্ট্রকে নয়, বরং আবেদনকারীকে পর্যাপ্ত ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণের মাধ্যমে নিজের নাগরিকত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হয়।