ওঙ্কার ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে ফের কড়া বার্তা দিল ভারতীয় সেনা। গত বছরের ২২ এপ্রিল এই পর্যটনকেন্দ্রে সংঘটিত হামলায় বহু নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটে, যাদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন পর্যটক। সেই ঘটনার স্মৃতি এখনও তাজা উপত্যকার মানুষের মনে, আর তার মধ্যেই সেনার এই বার্তা নতুন করে পরিস্থিতিকে গুরুত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
বর্ষপূর্তির প্রাক্কালে সেনার পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সন্ত্রাসবাদ দমনে কোনওরকম আপস করা হবে না। সীমান্তপার থেকে জঙ্গি অনুপ্রবেশ এবং হামলার চেষ্টা রুখতে সেনা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। এই ধরনের হামলার জবাব দিতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দেশের নিরাপত্তা নিয়ে কোনওরকম ঝুঁকি নেবে না ভারতীয় সেনা।
গত বছর পেহেলগাঁও হামলার পর ভারতীয় সেনা পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গী সংগঠনগুলিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করে। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর এবং পাকিস্তানের মাটিতে থাকা জঙ্গী গোষ্টী গুলির উপর হামলা চালায় ভারতীয় সেনা। ধুলিসাৎ করে দেওয়া হয় ৯টি ঘাঁটি। এই অপারেশনের পোষাকি নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’। সেনা সূত্রে দাবি, এইসব অভিযানের ফলে জঙ্গী কার্যকলাপে কিছুটা হলেও ভাটা পড়েছে, যদিও হুমকি পুরোপুরি দূর হয়নি।
অন্যদিকে, বর্ষপূর্তিকে ঘিরে গোটা কাশ্মীর উপত্যকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে পহেলগাঁও এবং অন্যান্য পর্যটন এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, চলছে নিয়মিত টহল। প্রশাসনের তরফে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিকল্পনা খতিয়ে দেখা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন কিছু ব্যবস্থাও চালু করেছে। কর্মরত শ্রমিক ও স্থানীয় পরিষেবা প্রদানকারীদের জন্য পরিচয়পত্র ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করা হয়েছে, যাতে সন্দেহজনক গতিবিধি দ্রুত চিহ্নিত করা যায়। পাশাপাশি প্রযুক্তির সাহায্যে নজরদারি বাড়ানোর দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার প্রভাব এখনও স্থানীয়দের জীবনে গভীরভাবে পড়ে রয়েছে। অনেকেই সেই দিনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ভুলতে পারেননি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে আতঙ্ক, বিশৃঙ্খলা এবং প্রাণ বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা। সেই স্মৃতি এখনও আতঙ্ক জাগায় উপত্যকার বাসিন্দাদের মনে।