ওঙ্কার ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এই আবহে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস গুরুতর অভিযোগ তুলে জানিয়েছে, তাদের বহু নেতা ও কর্মীকে পরিকল্পিতভাবে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে নির্বাচন কমিশন। এই আশঙ্কা প্রকাশ করে দলটি কলকাতা হাই কোর্ট-এর দ্বারস্থ হয়েছে এবং সম্ভাব্য গ্রেফতারের একটি বিস্তৃত তালিকাও আদালতে জমা দিয়েছে।
দলীয় সূত্রে দাবি, প্রায় ৮০০ জন নেতা-কর্মীর নাম এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তালিকায় শুধু সাধারণ কর্মী নন, রয়েছেন সাংসদ, বিধায়ক, নির্বাচনী প্রার্থী থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত ও জেলা পরিষদের প্রতিনিধিরাও। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ প্রায় সব জেলাতেই এই তালিকার বিস্তার দেখা গিয়েছে। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ থেকে শুরু করে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম, বাঁকুড়া, বর্ধমান বিভিন্ন জেলার একাধিক পরিচিত রাজনৈতিক মুখের নাম এই তালিকায় রয়েছে বলে দাবি তৃণমূলের।
এই বিষয়ে আদালতে তৃণমূলের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন জানান। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে, ফলে বিষয়টি এখন বিচারাধীন। দলটির আশঙ্কা, নির্বাচনের আগে বিরোধী শক্তিকে চাপে রাখতে প্রশাসনিক পদক্ষেপকে হাতিয়ার করা হতে পারে। অন্যদিকে ভারতের নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোনও রাজনৈতিক দল বা নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়নি। বরং যাঁদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে বা যাঁরা অপরাধমূলক মামলায় অভিযুক্ত, তাঁদের আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী গ্রেফতার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে, যা নির্বাচন-পূর্ব স্বাভাবিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন তদন্তে বহু নাম উঠে এসেছিল। তৃণমূলের দাবি, সেই প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখেই এবার নির্বাচনের আগে বৃহৎ পরিসরে গ্রেফতারের পরিকল্পনা করা হতে পারে। যদিও কমিশনের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অবাধ ভোট নিশ্চিত করতেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং এর সঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের কোনও সম্পর্ক নেই। ভোটমুখী বাংলায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।