ওঙ্কার ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সাম্প্রতিক ‘দেশের উদ্দেশে ভাষণ’ ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দেশের প্রায় ৭০০-রও বেশি নাগরিক এই ভাষণকে কেন্দ্র করে ভারতের নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগকারীদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন আমলা, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, সাংবাদিক ও সমাজকর্মীরা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্বাচনী বিধি কার্যকর থাকা অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী যে ভাষণটি দেন, তা সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম দূরদর্শন ও অল ইন্ডিয়া রেডিও সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সম্প্রচারিত হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, করদাতাদের অর্থে পরিচালিত এই সরকারি মাধ্যম ব্যবহার করে রাজনৈতিক বার্তা প্রচার করা মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট-এর পরিপন্থী এবং এর ফলে শাসক দল অযৌক্তিক সুবিধা পেতে পারে। মূলত দেশের সরকারি খরচে চলা এই মাধ্যমগুলি দেহের জন্য গুরত্বপুর্ন কোন ঘটনা সম্প্রচারের জন্য ব্যবহার হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদী এর আগে দেশের করোনা লকডাউন, অপারেশন সিঁদুরের মত গুরুত্বপুর্ন ঘটনার কথা দেশবাসীকে জানানো জন্য এই ম্যাধমকে ব্যবহার করে এসেছেন। অতীতে মুম্বাই হামলা, কার্গিল যুদ্ধের মত ঘটনা নিয়ে দেশবাসীকে অবগত করতে এই প্যাল্টফর্ম ব্যাবহার করে এসেছে দেশের প্রাক্তন প্রধানপমন্ত্রীরা।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী ক্ষমতায় থাকা সরকার বা তাদের প্রতিনিধিরা সরকারি যন্ত্র বা অবকাঠামো ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচার করতে পারেন না। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সেই নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভাষণের বিষয়বস্তু এবং তার সম্প্রচারের পদ্ধতি দুটিই নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও নির্বাচনী পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারীরা।
এছাড়াও, অভিযোগে বলা হয়েছে, সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতা করেনি বিরোধিরা বরং তারা ডিমেলিশন বা সীমাবদ্ধতার বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সেকথা আড়াল করে দেশবাসীকে ভুল তথ্য দিয়েদছেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে পঞ্চাশবারেরও বেশি বিরোধী দল ‘কংগ্রেস’-এর নাম উল্লেখ করেছেন। এর জেরে দেশের মূল বিরোধী দলকে সরকারি মাধ্যম ব্যবহার করে এইভাবে অবমাননা করা গণতন্ত্রের পরিপন্থী।
আবেদনকারিদের মতে যদি প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ সম্প্রচারের জন্য নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে একই সুযোগ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিকেও সমানভাবে দিতে হবে। অন্যথায় তা নির্বাচনী সমতা নষ্ট করবে। পাশাপাশি, যদি অনুমতি ছাড়া সম্প্রচার হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহে দেশের একাধিক রাজ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া চলছে এবং সর্বত্র মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট কার্যকর রয়েছে। এই রকম স্পর্শকাতর সময়ে কেন এত তাড়াতাড়ি এই বিল পাশ করাতে তৎপর কেন্দ্রের শাসকদল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছিল বিরোধী দলগুলি। আবার এই মাঝে সরকারি সম্পত্তি ব্যবহার করে সেই বিরোধী দলের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক বক্তব্য ঘটনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে এই অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।