ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের রাজনৈতিক মঞ্চে প্রচারে নেমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মহিলাদের উদ্দেশে একাধিক প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাস তুলে ধরলেন। বৃহস্পতিবার নদিয়ার কৃষ্ণনগরে এক বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি রাজ্যের ‘মা-বোনদের’ জন্য দশ দফা গ্যারান্টির কথা ঘোষণা করেন এবং বিজেপি ক্ষমতায় এলে সেই প্রতিশ্রুতিগুলি দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।
সভামঞ্চ থেকে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস এবং ইন্ডিয়া জোটকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, সংসদে মহিলাদের সংরক্ষণ বিল আটকে দেওয়ার জন্য এই রাজনৈতিক দলগুলিই দায়ী। তাঁর দাবি, যারা নারীর অধিকার রুখে দেওয়ার চেষ্টা করেছে, চলতি নির্বাচনে জনগণ তাদের উপযুক্ত জবাব দেবে। কয়েকদিন আগেই রাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য ছয়টি গ্যারান্টি দেওয়ার পর এবার মহিলাদের জন্য দশটি বিশেষ প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, মহিলাদের সুরক্ষা এবং আর্থিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে বিজেপি সরকার একাধিক পদক্ষেপ নেবে। প্রতিটি ব্লকে মহিলাদের জন্য আলাদা থানার ব্যবস্থা করা হবে এবং পুলিশবাহিনীতে ব্যাপক হারে মহিলাদের নিয়োগ করা হবে। তিনি আরও বলেন, এক বছরের মধ্যে মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩৬ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও একাধিক প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন তিনি। মেয়েদের স্নাতক স্তরের পড়াশোনার জন্য ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান। পাশাপাশি গর্ভবতী মহিলাদের জন্য ২১ হাজার টাকা এবং শিশুদের পুষ্টির জন্য অতিরিক্ত ৩৬ হাজার টাকা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন। সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার মাধ্যমে কন্যাসন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা হবে বলেও দাবি করেন তিনি।
স্বনির্ভরতার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুদ্রা যোজনার আওতায় ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হবে, যাতে মহিলারা নিজস্ব উদ্যোগে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। “লখপতি দিদি” তৈরির লক্ষ্যে লক্ষ লক্ষ মহিলাকে সহায়তা করা হবে বলেও তিনি জানান। স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে আয়ুষ্মান যোজনার আওতায় ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা দেওয়া হবে এবং প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর মহিলাদের নামেই নথিভুক্ত করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
এদিনের ভাষণে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও সরব হন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান রাজ্য সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। একইসঙ্গে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে যারা পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের সুরক্ষা দেওয়া হবে এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন কার্যকর করার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে কটাক্ষ করতেও ভোলেননি প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনী প্রচারের মাঝে তাঁর ঝালমুড়ি খাওয়ার ঘটনাকে ঘিরে শাসকদলের কটাক্ষের জবাবে তিনি বলেন, এই ঘটনায় কিছু মানুষের ঘুম উড়ে গিয়েছে। তাঁর এই মন্তব্যে উপস্থিত জনতার মধ্যে হাসির রোল পড়ে এবং রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।