ওঙ্কার ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে বহুল চর্চিত অর্থ পাচার মামলায় ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (আই-প্যাক)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ কুমার চন্দেলকে ১৪ দিনের জন্য বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল দিল্লির একটি আদালত। বৃহস্পতিবার পাটিয়ালা হাউস কোর্টের অতিরিক্ত সেশনস জজ ধীরেন্দ্র রানা এই নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৭ মে পর্যন্ত জেল হেফাজতেই থাকতে হবে চন্দেলকে। এর আগে তাঁর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিনই চন্দেলের তরফে দায়ের করা জামিনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ইডিকে নোটিস জারি করেছে আদালত এবং সংস্থার জবাব চেয়ে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ২৯ এপ্রিল। উল্লেখ্য, এর আগে ১৪ এপ্রিল গভীর রাতে তাঁকে আদালতে পেশ করা হলে দীর্ঘ শুনানির পর অতিরিক্ত সেশনস জজ শেফালি বারনালা ট্যান্ডন তাঁকে ১০ দিনের ইডি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন, যার মেয়াদ ছিল ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত।
ইডি সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ মার্চ নথিভুক্ত একটি ইসিআইআর-এর ভিত্তিতে এই গ্রেফতারি হয়, যা অর্থনৈতিক অপরাধ দমন শাখার দায়ের করা এফআইআর-এর উপর নির্ভর করে। অভিযোগ, এম এস ইন্ডিয়ান প্যাক কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেড এবং তার ডিরেক্টররা মিলে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, প্রতারণা, হিসাব জালিয়াতি এবং অবৈধ অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে চন্দেল এই পুরো অর্থ পাচার চক্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং অবৈধ অর্থের উৎস তৈরি, তা আড়াল করা এবং সেগুলি বৈধ রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ইডির অভিযোগ অনুযায়ী, সংস্থাটি ইচ্ছাকৃতভাবে আর্থিক লেনদেনকে দুই ভাগে ভাগ করত একটি অংশ ব্যাঙ্কিং চ্যানেলের মাধ্যমে এবং অন্যটি নগদে। নথিতে ‘৫০ শতাংশ চেক’ ধরনের উল্লেখ থেকে এই বিভাজনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এছাড়াও অভিযোগ, এই অপ্রদর্শিত অর্থ নির্বাচনী খরচ এবং জনমত প্রভাবিত করার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। ইডির আরও দাবি, প্রায় ১৩.৫০ কোটি টাকা কোনও লিখিত চুক্তি বা বাণিজ্যিক যুক্তি ছাড়াই এম এস রামাসেথু ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে সুদবিহীন ঋণ হিসেবে দেখিয়ে সংস্থার খাতায় ঢোকানো হয়েছিল।
সংস্থার বিরুদ্ধে ভুয়ো বিল তৈরি করে অর্থের উৎস দেখানো, প্রকৃত পরিষেবা না দিয়েও অর্থ গ্রহণ করা এবং হাওলা চ্যানেলের মাধ্যমে কালো টাকা লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। তদন্তে বাধা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে চন্দেল নাকি মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন এবং অন্যান্য ডিরেক্টরদের সঙ্গে মিলে তল্লাশি চলাকালীন ইমেল ও আর্থিক নথি মুছে ফেলতে নির্দেশ দিয়েছিলেন বলেও দাবি ইডির।
চন্দেলের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, এই গ্রেফতার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। তাঁর যুক্তি, মানি লন্ডারিং আইনের আওতায় কোনও নির্দিষ্ট অপরাধ প্রমাণিত হয়নি। তবে আদালত আগেই পর্যবেক্ষণ করেছিল যে, প্রাথমিকভাবে চন্দেলের বিরুদ্ধে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকার যথেষ্ট কারণ রয়েছে এবং তদন্ত চলাকালীন তিনি বিভ্রান্তিকর ও ভুয়ো তথ্য দিয়েছেন বলে মনে করার মতো ভিত্তি রয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই প্রথমে ইডি হেফাজত এবং পরে বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।