ওঙ্কার ডেস্ক: পুণের বহুল আলোচিত পোর্শে দুর্ঘটনা মামলায় আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এল অভিযুক্ত কিশোরের পরিবার। সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর অভিযুক্ত কিশোরের বাবা বিশাল আগরওয়ালের উদযাপনের একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, একটি রেস্তরাঁয় পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠদের নিয়ে জাঁকজমকপূর্ণ পার্টির আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে গলায় ফুল এবং টাকার মালা পরে হিন্দি গানের তালে নাচতে দেখা যায় বিশাল আগরওয়ালকে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের পাশাপাশি অভিযুক্ত কিশোরও সেই উদযাপনে অংশ নেয়। এক পর্যায়ে বাবাকে কাঁধে তুলে নাচতেও দেখা যায় তাকে।
ভিডিওটি সামনে আসার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দেন বহু মানুষ। তাঁদের প্রশ্ন, যে ঘটনায় দুই তরুণ আইটি কর্মীর মৃত্যু হয়েছিল এবং যা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল, সেই মামলার অন্যতম অভিযুক্তদের এমন প্রকাশ্য উদযাপন কতটা সংবেদনশীলতার পরিচয় বহন করে? নিহতদের পরিবারের তরফেও এই ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালীন এই ধরনের আচরণ সাধারণ মানুষের মনে ভুল বার্তা দিচ্ছে এবং প্রভাবশালী পরিবারগুলির ঔদ্ধত্যকেই সামনে আনছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৯ মে পুণের কল্যাণী নগর এলাকায় গভীর রাতে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। একটি বিলাসবহুল পোর্শে গাড়ি দ্রুতগতিতে একটি মোটরবাইককে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দুই তরুণ আইটি কর্মীর। তদন্তে উঠে আসে, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিল ১৭ বছরের এক কিশোর এবং সে মদ্যপ অবস্থায় ছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর থেকেই দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়।
তদন্ত চলাকালীন আরও একাধিক বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসে। অভিযোগ ওঠে, অভিযুক্ত কিশোরকে বাঁচাতে তার রক্তের নমুনা বদলের চেষ্টা করা হয়েছিল। এই ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে কিশোরের বাবা বিশাল আগরওয়াল-সহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে। পুলিশ দাবি করে, প্রভাব খাটিয়ে প্রমাণ লোপাট এবং তদন্তে হস্তক্ষেপের চেষ্টাও করা হয়েছিল।
প্রথমদিকে কিশোরকে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের তরফে শুধুমাত্র রচনা লিখেই জামিন দেওয়া হলেও সেই সিদ্ধান্ত ঘিরে দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে সেই জামিন বাতিল করা হয় এবং তদন্তের গতি বাড়ানো হয়। দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট বিশাল আগরওয়ালকে জামিন দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মামলার অন্য অভিযুক্তরাও ইতিমধ্যে জামিন পেয়েছেন এবং বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার প্রয়োজন রয়েছে।
তবে জামিনের পর পরিবারের এই উদযাপন নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, এত বড় মর্মান্তিক ঘটনার পর এমন প্রকাশ্য উৎসব নিহত পরিবারগুলির যন্ত্রণাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। একইসঙ্গে এই ঘটনা বিচারব্যবস্থা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং প্রভাবশালী পরিবারের আচরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।