ওঙ্কার ডেস্ক: পুলিশি অভিযানের মাঝে গুলি বিনিময়ে মৃত্যু হল এক আসামির। একাধিক ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার জন্য তল্লাশি অভিযানে গিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু সে সময় অভিযুক্তের আত্মীয় স্বজনরা পুলিশের কাজে বাধা দেয়। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত যুবকও তদন্তকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তার পর আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পালটা গুলি চালালে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ওই অভিযুক্তের। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে পাঞ্জাবের জলন্ধর জেলার বাঙ্গিওয়াল গ্রামে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত যুবকের নাম লাভপ্রীত সিং। তাঁর কোমর ও উরুতে দুটি গুলি লেগেছিল। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে নাকোদর সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিন বোনের একমাত্র ভাই ছিলেন লাভপ্রীত। কয়েক বছর আগে তার বাবা মারা যান। পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মেহাতপুর থানার আধিকারিক আমন সাইনির নেতৃত্বে একটি দল তাঁর বাড়িতে অভিযান চালায়। চলতি বছরের শুরুর দিকে দায়ের হওয়া একটি খুনের চেষ্টার মামলায় লাভপ্রীত অভিযুক্ত ছিলেন। গত চার মাস ধরে পুলিশ তাঁকে খুঁজছিল। জলন্ধর গ্রামীণ এসএসপি হরবিন্দর সিং ভির্ক জানান, অভিযানের সময় লাভপ্রীতের পরিবার ও আত্মীয়স্বজন পুলিশের কাজে বাধা সৃষ্টি করে। লাঠিসোঁটা ও পাথর ছুঁড়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। ওই পুলিশ কর্তা বলেন, ‘পুলিশ যখন তাঁকে গ্রেফতার করতে যায়, তখন তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। ফলে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়। ধস্তাধস্তির সময় লাভপ্রীতের শরীরে দুটি গুলি লাগে।’ তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় পুলিশ আধিকারিক আমন সাইনি এবং কনস্টেবল সুখবিন্দর সিংও আহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাচেষ্টার মামলা ছাড়াও লাভপ্রীতের বিরুদ্ধে আরও চারটি ফৌজদারি মামলা রয়েছে।
তবে লাভপ্রীতের পরিবার পুলিশের এই দাবি অস্বীকার করেছে। তাঁর কাকা যশবন্ত সিং এর অভিযোগ, সন্ধ্যা সওয়া সাতটা নাগাদ পুলিশ এসে পরিবারের লোকজনকে মারধর শুরু করে। তাঁর দাবি, এর প্রতিবাদ করলে পুলিশ এলোপাথাড়ি গুলি চালায়; এতে লাভপ্রীত গুলিবিদ্ধ হন এবং স্থানীয়দের ভয় দেখানোর জন্য পুলিশ শূন্যেও গুলি ছোড়ে।