ওঙ্কার ডেস্ক: পুনের তরুণ ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের মৃত্যুর তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। প্রথমে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডে পরিণত হয়েছে বলে দাবি করছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় কেতনের বাগদত্তা সিয়া গোয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, দু’জন মিলে সুপরিকল্পিতভাবে কেতনকে খুনের ছক কষেছিলেন।
পুলিশ সূত্রের দাবি, জেরার সময় সিয়া তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, পরিবারের কাছে বিয়ে করতে না চাওয়ার কথা বলার চেয়ে কেতনকে সরিয়ে দেওয়াই তাঁর কাছে সহজ মনে হয়েছিল। এই মন্তব্য তদন্তকারীদের কাছেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এই বক্তব্যের সত্যতা এখনও আদালতে যাচাই হয়নি। তদন্তে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চেতন চৌধুরীর সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন সিয়া। কিন্তু পরিবারের আপত্তির কারণে সেই সম্পর্ক মেনে নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের ছেলে হওয়ায় কেতন আগরওয়ালের সঙ্গে সিয়ার বিয়ে ঠিক করা হয়। অভিযোগ, পরিবারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাওয়ার সাহস না থাকায় সিয়া ও চেতন কেতনকে পথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন।
পুলিশের দাবি, পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘুরতে যাওয়ার অজুহাতে কেতনকে পুনের কাছে লোহাগড় দুর্গ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে হত্যা করে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। প্রথমদিকে ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলেই মনে হলেও তদন্তে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপরই তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য এবং ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলেছে। পাশাপাশি সিয়া ও চেতনের মধ্যে হওয়া একাধিক চ্যাট মুছে ফেলারও অভিযোগ উঠেছে। সেই তথ্য পুনরুদ্ধারে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই হত্যার পরিকল্পনায় অন্য কোনও ব্যক্তি যুক্ত ছিলেন কি না।