ওঙ্কার ডেস্ক: কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী রবিবার সম্প্রতি সিবিএসই-র মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে আসা দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র বেদান্ত শ্রীবাস্তব এবং তাঁর কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতের পর সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি ছাত্রদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ ও কটাক্ষের সমালোচনা করেন এবং তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দেন।
সম্প্রতি সিবিএসই-র উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনার সূত্রপাত হয়। বেদান্ত শ্রীবাস্তব অভিযোগ করেছিলেন যে পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করার পর তাঁকে যে উত্তরপত্র দেখানো হয়েছিল, সেটি তাঁর নিজের লেখা উত্তরপত্র ছিল না। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং মূল্যায়ন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এই ঘটনার জেরে বেদান্ত এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। অভিযোগ তোলা হয় যে তাঁরা ইচ্ছাকৃতভাবে বিতর্ক সৃষ্টি করছেন। সামাজিক মাধ্যমে তাঁদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের কটূক্তি এবং ব্যক্তিগত আক্রমণও করা হয় বলে অভিযোগ। ক্লাস ১২-এ পড়া বেদান্তকে দেশদ্রোহীও বলে এক দল অশিক্ষিত মানুষ। সেই প্রেক্ষাপটেই রাহুল গান্ধী তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাতের সময় রাহুল গান্ধী ছাত্রদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন এবং ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে প্রশ্ন তোলেন, কেন শুধুমাত্র প্রশ্ন করার জন্য বা নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করার জন্য তরুণ ছাত্রছাত্রীদের দেশবিরোধী বা অন্য নানা তকমা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নাগরিকদের, বিশেষ করে ছাত্রদের, প্রশ্ন করার অধিকার রয়েছে এবং সেই অধিকারকে সম্মান করা উচিত। ভিডিওতে বেদান্তের পরিবারের সদস্যরাও নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তাঁরা জানান, ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক আক্রমণাত্মক মন্তব্য করা হয়েছিল এবং নানা ধরনের অভিযোগের মুখে পড়তে হয়েছিল। এর ফলে মানসিক চাপও তৈরি হয়েছিল বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।
রাহুল গান্ধী বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম যদি শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বা অন্য কোনও বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তাহলে সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়াই কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তাঁদের হেয় প্রতিপন্ন করা বা ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি ছাত্রদের সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, নিজেদের অধিকারের জন্য কথা বলার মানসিকতা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। অন্যদিকে, বিতর্কের পর সিবিএসই কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে যে উত্তরপত্র প্রদর্শনের ক্ষেত্রে একটি ত্রুটি ঘটেছিল। পরে সংশ্লিষ্ট ছাত্রকে সঠিক উত্তরপত্র দেখানো হয় এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার নির্ভুলতা, প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষার্থীদের অভিযোগ নিষ্পত্তির পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।