ওঙ্কার ডেস্ক: রাজস্থানের বহুচর্চিত নাবালিকা ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত স্বঘোষিত ধর্মগুরু আশারাম অবশেষে ফের জোধপুর কেন্দ্রীয় জেলে আত্মসমর্পণ করলেন। রাজস্থান হাই কোর্ট তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখার পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন জামিন বাতিল করে দেওয়ার পরই এই পদক্ষেপ করতে বাধ্য হন তিনি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেল কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেন আসারাম।
জানা গিয়েছে, আদালতের নির্দেশের পর হরিদ্বার থেকে জোধপুরে পৌঁছন তিনি। বিমানবন্দরে নামতেই তাঁর বহু অনুগামী সেখানে ভিড় জমান। গাড়ির ভিতর থেকেই হাত নেড়ে সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানান আশারাম। পরে তিনি পাল এলাকার আশ্রমে যান এবং কিছু সময় সেখানে কাটান। শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে চিকিৎসকদের সঙ্গেও পরামর্শ করেন তিনি। এরপর সন্ধ্যায় জোধপুর কেন্দ্রীয় জেলে পৌঁছে আত্মসমর্পণ করেন।
২০১৩ সালে জোধপুরের একটি আশ্রমে নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে আশারামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার পর ২০১৮ সালে বিশেষ পকসো আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। সেই রায়ের বিরুদ্ধে রাজস্থান হাই কোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। তবে সম্প্রতি হাই কোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখে এবং তাঁকে অবিলম্বে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানানো হয়, মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং নিম্ন আদালতের রায়ে হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। যদিও গণধর্ষণের অভিযোগে আশারাম ও তাঁর দুই সহযোগীকে খালাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবু মূল মামলায় সাজা বহাল থাকায় ফের জেলে ফিরতে হল তাঁকে। এর আগে বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছিলেন আশারাম। সেই সময় তিনি আশ্রমে থেকে চিকিৎসা করাচ্ছিলেন। কিন্তু হাই কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের পর তাঁর জামিন বাতিল হয়ে যায়। ফলে আদালতের নির্দেশ মেনেই তাঁকে ফের জেলে ফিরতে হয়।
এই ঘটনায় আবারও নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে দেশের অন্যতম বিতর্কিত ধর্মগুরুর নাম। দীর্ঘদিন ধরেই নানা অপরাধমূলক অভিযোগ, মামলা ও বিতর্কে জড়িয়ে রয়েছে আশারামের নাম। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক নারী নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির অভিযোগও অতীতে সামনে এসেছিল। তবে নাবালিকা ধর্ষণ মামলাটিই ছিল সবচেয়ে গুরুতর এবং বহুল আলোচিত। আশারামের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, হাই কোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও আপাতত তাঁকে জেলেই থাকতে হবে বলেই স্পষ্ট করে দিয়েছে আদালত।