ওঙ্কার ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন রাজ্যে অনুষ্ঠিত রাজ্যসভার দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে ২২ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার সৃষ্টি হয়েছে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর স্পষ্ট হয়ে যায় যে একাধিক আসনে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী অবশিষ্ট নেই। ফলে নির্বাচন কমিশন তাঁদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে।
নির্বাচিতদের মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক তরুণ চুঘ-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা। এছাড়াও বিজেপি, কংগ্রেস, জনতা দল (ইউনাইটেড), অন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝগম (এআইএডিএমকে), ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি এবং অন্যান্য আঞ্চলিক দলের প্রার্থীরাও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেছেন। রাজ্যসভা নির্বাচনে এই ফলাফল সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে রাজনৈতিক দলগুলির সাংগঠনিক শক্তি এবং বিধানসভায় তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রতিফলন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
মধ্যপ্রদেশে তিনটি রাজ্যসভা আসনের জন্য বিজেপি তরুণ চুঘ, রজনীশ আগরওয়াল এবং মহেশ কেওয়াতকে প্রার্থী করেছিল। অন্যদিকে কংগ্রেস মীনাক্ষী নটরাজনকে প্রার্থী করলেও তাঁর মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়। ফলে তিনটি আসনেই বিজেপি প্রার্থীদের জয় কার্যত নিশ্চিত হয়ে পড়ে। পরে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁদের নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।
কর্ণাটকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে তাঁর নির্বাচিত হওয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপি, কংগ্রেস এবং আঞ্চলিক দলগুলির একাধিক প্রার্থীও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেন।
রাজস্থান, অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর-সহ একাধিক রাজ্যে বিধানসভায় সংখ্যাগত সমীকরণ এমন ছিল যে প্রার্থীদের জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। ফলে বিরোধী দলগুলি অনেক ক্ষেত্রে প্রার্থী দেয়নি অথবা মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। এর ফলেই ভোটাভুটির প্রয়োজন ছাড়াই একাধিক প্রার্থী নির্বাচিত হন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যসভা নির্বাচন সাধারণত বিধানসভার সংখ্যার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় অনেক সময় ফলাফল আগে থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। বহু আসনে দলগুলির মধ্যে সমঝোতা, কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং বিধানসভায় শক্তির ভারসাম্যের কারণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
তবে কয়েকটি রাজ্যে এখনও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় রয়েছে, যেখানে একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকায় ভোটগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই আসনগুলির ফলাফল নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে জোরদার তৎপরতা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি, কংগ্রেস-সহ বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক দলের ২২ জন প্রার্থীর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।