ওঙ্কার ডেস্ক: সোমবার সপ্তাহের প্রথম দিনেই বড় ধাক্কা খেল দেশের শেয়ার বাজার। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে হঠাৎ করে বাড়তে থাকা উত্তেজনার জেরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারই সরাসরি প্রভাব পড়ে বাজারে, দিনের শুরু থেকেই ব্যাপক বিক্রির চাপ তৈরি হয়।
দিনের লেনদেন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেনসেক্স হু হু করে নামতে শুরু করে এবং একসময় প্রায় ৯০০ পয়েন্ট পর্যন্ত পতন ঘটে। একইভাবে নিফটিতেও বড় ধস নামে, সূচকটি ২৩০ পয়েন্ট নিচে নেমে যায়। ব্যাংকিং, আইটি, মেটাল এবং তেল-সংক্রান্ত প্রায় সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ খাতেই লাল রঙের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এই পতনের মূল কারণ আমেরিকা, ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের পরিস্থিতি। শান্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে এবং তার প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে। বিশেষ করে আমেরিকার পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত এবং ইজরায়েলের সামরিক প্রস্তুতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দেয়।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে তেলের বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে বেড়ে যায়, যা কয়েক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে যায়। তেলের দামের এই উত্থান ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ তেলের দাম বাড়লে পরিবহন থেকে শুরু করে উৎপাদন সব ক্ষেত্রেই খরচ বাড়ে, যা শেষ পর্যন্ত মুদ্রাস্ফীতিকে উসকে দেয়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় বিনিয়োগকারীরা সাধারণত ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে এসে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তার ফলেই শেয়ার বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও এই পরিস্থিতিতে টাকা তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখান, যা বাজারকে আরও দুর্বল করে তোলে। এদিকে রুপির মানও চাপে পড়েছে। ডলারের বিপরীতে রুপির দর কমে যাওয়ায় আমদানির খরচ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতির উপর চাপ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।