ওঙ্কার ডেস্ক: রাজস্থানের আজমেরে এক ভয়াবহ পারিবারিক হত্যাকাণ্ড ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একটি পুড়ে যাওয়া গাড়ির ভিতর থেকে একই পরিবারের চার সদস্যের দগ্ধ দেহ উদ্ধারের ঘটনায় গোটা এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান রাম সিং চৌধরী, তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী, মা এবং এক ভাইঝি। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি ও বিবাদের জেরেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আজমের জেলার শ্রীরামপুরা গ্রামের কাছে একটি খেতের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা আগুনে পুড়ে যাওয়া গাড়ি প্রথম দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। গাড়ি থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে সন্দেহ হয় তাঁদের। খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও দমকল কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর গাড়ির ভিতর থেকে উদ্ধার হয় চারটি ঝলসানো দেহ। প্রথমে এটি দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও পরে তদন্তে সামনে আসে ভয়ঙ্কর খুনের ঘটনা।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, রাম সিং চৌধরীর দুই স্ত্রী ছিল। প্রথম স্ত্রী সুনীতা ও তাঁর সন্তানদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই সম্পর্কের অবনতি হচ্ছিল। অভিযোগ, দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই প্রথম পক্ষের পরিবারকে অবহেলা করতেন রাম সিং। প্রায়ই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়িতে অশান্তি, মারধর এবং অপমানের ঘটনা ঘটত। এর জেরে পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার দিনও বাড়িতে তীব্র বচসা শুরু হয়। সেই সময় রাগের মাথায় রাম সিংয়ের নাবালক ছেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাবার উপর হামলা চালায়। ঘটনাটি দেখে ফেলায় দ্বিতীয় স্ত্রীকেও খুন করা হয় বলে অভিযোগ। পরে চিৎকার শুনে বাইরে বেরিয়ে আসেন রাম সিংয়ের বৃদ্ধা মা ও ভাইঝি। তাঁদেরও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে চারটি দেহ গাড়িতে তুলে নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়, যাতে পুরো ঘটনাকে দুর্ঘটনা বলে মনে হয়। কিন্তু দেহগুলির অবস্থা এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। এরপরই শুরু হয় বিস্তারিত তদন্ত।
পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে। তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত নাবালক আগেই অনলাইনে একটি ছুরি কিনেছিল। এমনকী ঘটনার আগে বাবাকে মাদক খাওয়ানো হয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। এই ঘটনায় প্রথম স্ত্রী সুনীতা এবং তাঁর সন্তানদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। পুরো ঘটনার পিছনে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই পরিবারে অশান্তি চলছিল। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।