ওঙ্কার ডেস্ক: এবার ইবোলা ভাইরাসের আতঙ্ক দেশে। উগান্ডা ফেরত এক মহিলার শরীরে ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণের উপসর্গ দেখা গিয়েছে। জানা গিয়েছে তিনি গত ২৩ মে উগান্ডা থেকে বেঙ্গালুরুতে আসেন। সেদিনই জ্বর, শরীরে দুর্বলতার মত কিছু উপসর্গ লক্ষ্য করে বিমানবন্দরের কর্মীরা। তাঁকে সেখানে আটক করা না হলেও পরে এক হোটেলে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। সেখান থেকে ঐ মহিলাকে এক সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে ইন্দিরানগরে এপিডেমিক ডিজিজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে কর্নাটক স্বাস্থ্যদপ্তর এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
জানা গিয়েছে, বছর আটাশের ওই মহিলা সম্প্রতি উগান্ডা থেকে বেঙ্গালুরুতে পৌঁছন। বিমানবন্দরে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় তাঁর শরীরে জ্বর ও শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণ ধরা পড়ে। এরপরই স্বাস্থ্য আধিকারিকরা তাঁকে আলাদা করে পর্যবেক্ষণে রাখেন। পরে তাঁকে শহরের বিশেষ এপিডেমিক ডিজিজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসকদের কড়া নজরদারিতে রয়েছেন তিনি। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, ওই মহিলার রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত তাঁকে সম্পূর্ণ আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর সংস্পর্শে আসা যাত্রী, বিমানকর্মী ও হোটেল কর্মীদেরও চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। সংক্রমণের সম্ভাবনা এড়াতে বিমানবন্দর ও সংশ্লিষ্ট এলাকাতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইবোলা একটি অত্যন্ত সংক্রামক এবং প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, শরীরের তরল বা সংক্রমিত প্রাণীর সংস্পর্শে এলে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমদিকে জ্বর, মাথাব্যথা, গা-হাত-পায়ে ব্যথা, দুর্বলতা, বমি ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা যায়। গুরুতর অবস্থায় রক্তক্ষরণও হতে পারে। ইবোলা ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার মাত্র ৩ দিনের মাথায় মৃত্যু হতে পারে রোগীর। আফ্রিকার একাধিক দেশে অতীতে এই ভাইরাসে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে প্রায় ১৫০ জনের বেশি। সংক্রমিত শতাধিক।
ভারতে এখনও পর্যন্ত ইবোলার নিশ্চিত সংক্রমণের কোনও ঘটনা সামনে না এলেও, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই একাধিক বিমানবন্দরে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। বিশেষ করে আফ্রিকার সংক্রমিত অঞ্চলগুলি থেকে আসা যাত্রীদের উপর কড়া স্ক্রিনিং চালানো হচ্ছে। বিশেষ দরকার ছাড়া আফ্রিকার দেশ গুলিতে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে দেশবাসীকে। বেঙ্গালুরুর এই ঘটনাকে ঘিরে স্বাস্থ্য মহলে উদ্বেগ তৈরি হলেও প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।