ওঙ্কার ডেস্ক: ছেলের স্ত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ শ্বশুরের বিরুদ্ধে। ঘটনা কাউকে বললে গুলি করে মেরে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছে অভিযুক্ত। শুধু তাই নয়, ওই নির্যাতিতার স্বামী তাঁকে ফোনে তিন তালাক দিয়েছে বলেও অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের বাহরাইচ জেলায়। ইতিমধ্যে অভিযোগ পেয়ে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ।
বৃহস্পতিবার পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ওই নারী অভিযোগে আরও বলেন, ঘটনার পর তিনি যখন সাহায্য চেয়েছিলেন, তখন তাঁর শাশুড়ি, ননদ ও দেওর তাঁকে সাহায্য না করে উল্টে মারধর করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, লখনউয়ের বাসিন্দা ওই মহিলা। ২০২৩ সালে তিনি বিয়ে করেন। অভিযোগ, কাজের সূত্রে তাঁর স্বামী বাইরে থাকেন। আর সেই সুযোগে শ্বশুর তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন। কাউকে কিছু জানালে বন্দুক দিয়ে গুলি করে খুনের হুমকিও দিয়েছে অভিযুক্ত। তিনি জানান, ২৪ জানুয়ারি সর্বশেষ তাঁকে নির্যাতন করে অভিযুক্ত শ্বশুর। তবে পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় নির্যাতিতার স্বামী দাবি করেছেন, তাঁর স্ত্রীর অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। যে কারণে তাঁদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। এদিকে ওই মহিলার অভিযোগ, বাপের বাড়িতে ফিরে আসার পর তাঁর স্বামী ফোনে তাঁকে ‘তিন তালাক’ দেন। গোটা বিষয়টি নিয়ে পুলিশ স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি, দেওর ও ননদের বিরুদ্ধে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’র আওতায় মামলা দায়ের করেছে।
রূপাইডিহা থানার পুলিশ আধিকারিক রমেশ কুমার রাওয়াত জানিয়েছেন, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের তদন্ত চলছে। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। তাঁর কথায়, ‘বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ভারতে ‘তিন তালাক’ প্রথাকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়। কোনও মুসলিম স্বামী তাৎক্ষণিক ‘তিন তালাক’ দিলে তাঁকে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হতে পারে।