ওঙ্কার ডেস্ক: তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেও সরকার গঠনের ক্ষেত্রে জটিল সমীকরণের মুখে পড়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা তথা রাজনৈতিক নেতা বিজয়। সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল তামিঝাগা ভেত্রি কাজগম (টিভিকে) উল্লেখযোগ্য ফলাফল করে রাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উঠে এলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় আসন সংখ্যা থেকে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় বিজয়ের একটি ছোট কৌশলগত ভুল এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর টিভিকে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। দীর্ঘদিন ধরে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র দখলে থাকা তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এই ফলাফল নিঃসন্দেহে যুগান্তকারী। বিজয়ের জনপ্রিয়তা, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং তরুণ ভোটারদের বিপুল সমর্থন তাঁকে দ্রুত রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। কিন্তু সরকার গঠনের প্রশ্নে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত না করেই দ্রুত রাজ্যপালের কাছে দাবি জানানোকে অনেকেই তাঁর বড় রাজনৈতিক ভুল হিসেবে দেখছেন। সূত্রের খবর, বিজয় পর্যাপ্ত জোটসঙ্গী নিশ্চিত করার আগেই সরকার গঠনের দাবি জানান। ফলে রাজ্যপালের কাছে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতার পূর্ণ নিশ্চয়তা তুলে ধরতে পারেননি। এর ফলে বিরোধী দলগুলি সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং সম্ভাব্য জোট রাজনীতির দর-কষাকষি আরও জটিল আকার ধারণ করে। বর্তমানে কংগ্রেস, বাম দল এবং আঞ্চলিক কয়েকটি দলের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চলছে, তবে চূড়ান্ত সমীকরণ এখনও অনিশ্চিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয় যদি আগে সম্ভাব্য মিত্রদের সঙ্গে সুসংহত সমঝোতা গড়ে তুলতেন এবং পরে সরকার গঠনের দাবি করতেন, তাহলে পরিস্থিতি অনেকটাই তাঁর পক্ষে যেতে পারত। তাড়াহুড়ো করে পদক্ষেপ নেওয়ায় তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান কিছুটা দুর্বল হয়েছে এবং প্রতিপক্ষের কাছে সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন রাজ্যপালের সিদ্ধান্ত, জোট আলোচনার ফলাফল এবং বিধানসভায় আস্থা ভোট এই তিনটি বিষয়ই নির্ধারণ করবে টিভিকে আদৌ সরকার গঠন করতে পারবে কি না। বিজয়ের সামনে এখন শুধু জনপ্রিয়তার পরীক্ষা নয়, বরং রাজনৈতিক কৌশল, ধৈর্য এবং নেতৃত্বের বাস্তব পরীক্ষাও উপস্থিত।
তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ইতিহাসে এই মুহূর্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। চলচ্চিত্র জগতের তারকা থেকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হওয়ার পথে বিজয় বড় সাফল্য পেলেও সরকার গঠনই তাঁর প্রকৃত রাজনৈতিক পরিপক্বতার প্রমাণ হয়ে উঠবে।