ওঙ্কার ডেস্ক: উত্তর দিনাজপুর জেলার সুজাপুর-দলখোলা এলাকা থেকে নিশার আলম ওরফে জানিসুর আলম নামের এক তরুণকে গ্রেফতার করেছে জাতীয় অনুসন্ধান সংস্থা। সন্দেহ করা হচ্ছে তার সন্ত্রাসী সংযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের মতে নিশার আলম লুধিয়ানা নিবাসী হলেও তার পারিবারিক ভিটে ওই এলাকায়ই। অনুসন্ধানকারীরা জানান, জানিসুর বৃহস্পতিবার সকালে সন্দেহ জনকভাবে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করছিল। পাশাপাশি ফরিদাবাদের আল ফালহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র আছে বলে আশঙ্কা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। সুত্রের জানা গেছে যে তাঁর মোবাইল টাওয়ার তথ্য ট্র্যাক করার পরই তাঁর অবস্থান জানা সম্ভব হয়।
নিশার আলম ওরফে জানিসুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময়, তদন্তকারীরা জানায় যে তিনি পালানোর চেষ্টা করেছিলেন যার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর সন্দেহকে আরও বেড়ে যায়। নিশারের কাছ থেকে বেশ কিছু ডিজিটাল ডিভাইস ও নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, এবং প্রাথমিক স্বীকারোক্তি বলা হচ্ছে যে তিনি সম্ভাব্যভাবে একাধিক স্যাবোটাজ কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকতে পারে। যদিও এখনও স্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি যে তাঁর এবং দিল্লির রেড ফোর্ট এলাকায় ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে কি না।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার দিল্লির লাল কেল্লার কাছে গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী ভুটান থেকে ফিরে বৈঠকের পর জানান, এটি একটি সন্ত্রাসবাদী হামলা। বুধবারই এই ঘটনার তদন্তের দায়ভার নিয়েছে এনআইএ। এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে নিশার আলমের। সুত্রের খবর অনুযায়ী তিনি ফরিদাবাদের আল ফালহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত। নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়, ফারিদাবাদ-এ কর্মরত কয়েকজন চিকিৎসকের দিকেও নজর দিয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী মডিউলে লিপ্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ঘর থেকে ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক এবং অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল দিল্লি বিস্ফোরণ কান্ডের মূল অভিযুক্ত উমর নবি। পাশাপাশই বেশ কিছু চিকিৎসকের নাম উঠে এসেছে তদন্তকারীদের তালিকায়। এই চিকিৎসকরা হাসপাতালে কাজ করতেন এবং ছাত্রদের পড়ানোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
এদিকে, আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে তারা তদন্ত সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে এবং দাবি করছে যে তাদের সঙ্গে অভিযুক্ত চিকিৎসকদের সংযোগ শুধুমাত্র পেশাগত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব বা ক্যাম্পাসে কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সহায়তা দেওয়ার ঘটনা তারা অস্বীকার করেছে। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, একই বিশ্ব বিদ্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তার নাম জড়িয়েছে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে, বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ এবিষয়ে অবগত ছিলনা তা মানতে নারাজ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাঁদের মতে আরও বেশ কিছু জন এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন।
উত্তর দিনাজপুরের ঘটনায়, গ্রামের অনেকেই আশ্চর্য হয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা বলছেন জানিসুর একটি শান্ত ও পড়াশোনায় মনোনিবেশ করা ছেলে ছিল, তাদের মত তিনি কখনও এমন সন্ত্রাসবাদ মূলক পরিকল্পনায় যুক্ত থাকবেন, তারা কল্পনাও করতে পারেনি। তবে এখন জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি তার ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও নথি বিশ্লেষণ করছে।
