ওঙ্কার ডেস্ক: নয়ডায় গৃহবধূ কে পুড়িয়ে মেরে ফেলার ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্ত স্বামী বিপিন ভাটি এবং শাশুড়ি দয়া ভাটিকে গ্রেফতার করেছে। এবার ধরা পড়ল নিক্কির দেওর রোহিত ভাটিও। তবে শ্বশুর সত্যবীর ভাটি এখনও পলাতক। মূল অভিযুক্ত বিপিনকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্য দুই অভিযুক্তকেও আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য নয়ডায় পণের দাবিতে নৃশংস হত্যাকাণ্ডে শিহরিত গোটা দেশ। ৩৬ লক্ষ টাকার পণ না পেয়ে শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনের শিকার হয়ে শেষমেশ প্রাণ হারিয়েছেন ২৮ বছরের নিক্কি ভাটি। দিল্লির সফদরজঙ্গ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ অগস্ট, বৃহস্পতিবার মৃত্যু হয় তাঁর। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই নিক্কিকে লাগাতার চাপ দেওয়া হচ্ছিল মোটা অঙ্কের টাকার দাবিতে। পরিবারের পক্ষ থেকে টাকা না মেলায় নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত গায়ে তেল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হলেও তাঁকে আর বাঁচানো যায়নি।
নিক্কির দিদি কাঞ্চন, যিনি নিজেও ভাটি পরিবারে বিবাহসূত্রে যুক্ত, সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন, “আমার বোনকে বিপিন এবং আমার শাশুড়ি দয়া আগুনে জ্যান্ত পুড়িয়ে মেরেছে।” তিনি একাধিক ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যা নিক্কির ওপর চলা নির্যাতনের নির্মম প্রমাণ করছে।
ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে, নিক্কিকে বেধড়ক মারধর করছেন তাঁর স্বামী ও শাশুড়ি। আরও একটি ভিডিওতে ভয়াবহ দৃশ্য, আগুনে পুড়ে যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামছেন নিক্কি। অন্য এক ফুটেজে দেখা গিয়েছে, গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় মেঝেতে বসে আছেন তিনি।
ঘটনার পর থেকে গ্রেটার নয়ডা ও আশেপাশের এলাকায় প্রবল ক্ষোভ ছড়িয়েছে। সমাজকর্মীরা দাবি তুলেছেন, এমন নির্মম ঘটনার শাস্তি দ্রুত এবং দৃষ্টান্তমূলক হওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও নারীকে পণের দাবিতে প্রাণ দিতে না হয়।
