ওঙ্কার ডেস্ক: নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের বারোটি রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার কমিশনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সূচি প্রকাশ করা হয়। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার থেকেই রাজ্যে এই সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হবে। দীর্ঘ বিরতির পর ফের এই ধরনের পূর্ণাঙ্গ যাচাই প্রক্রিয়া চালু হওয়ায় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে বিষয়টি।
কমিশনের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এনুমারেশন ফর্ম ছাপার কাজ ও বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলওদের প্রশিক্ষণ। এরপর ৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার ফর্ম বিতরণ ও সংগ্রহের কাজ করবেন বিএলওরা। ৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা। ওই দিন থেকেই শুরু হবে অভিযোগ বা সংশোধনের আবেদন জমা নেওয়ার প্রক্রিয়া, যা চলবে আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখে ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।
কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই সংশোধন প্রক্রিয়ায় নতুন ভোটার নাম অন্তর্ভুক্ত করা, মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া, ঠিকানা বদলের ক্ষেত্রে তথ্য সংশোধন করা এবং ভোটার তালিকার সামগ্রিক নির্ভুলতা যাচাই করা হবে। ২০০২ সালের পর এত বড় পরিসরে পশ্চিমবঙ্গে আর কখনও এই ধরনের নিবিড় সংশোধন হয়নি। তাই এবারের উদ্যোগকে “গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ” হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের এক কর্তা জানিয়েছেন, “বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার লক্ষ্য হল রাজ্যের প্রতিটি বৈধ নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং কোনও ধরনের ভুয়ো নাম বা পুনরাবৃত্তি যেন না থাকে তা নিশ্চিত করা।” এই প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিগত যাচাই, তথ্যের ক্রস-চেকিং এবং মাঠপর্যায়ে বিস্তৃত পরিদর্শন চালানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই সংশোধনের নামে কিছু নির্দিষ্ট ভোটার শ্রেণিকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, শাসকদল দাবি করেছে, কমিশনের এই উদ্যোগে ভোটার তালিকা আরও স্বচ্ছ হবে, যা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরপেক্ষ ও তথ্যনির্ভর এই প্রক্রিয়াটি যদি সময়সূচি অনুযায়ী সম্পন্ন হয়, তাহলে আগামী নির্বাচনে আরও নিখুঁত ভোটার তালিকা তৈরি হবে। কমিশনের তরফে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় নির্বাচন কর্তৃপক্ষকে ইতিমধ্যেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রতিটি পর্যায়ে নির্ভুলতা বজায় থাকে এবং নাগরিকদের অংশগ্রহণ সর্বাধিক হয়।
