ওঙ্কার ডেস্ক: মঙ্গলবার গভীর রাতে পাঞ্জাবে পরপর দুটি বিস্ফোরণের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে জালন্ধরে বিএসএফের পাঞ্জাব ফ্রন্টিয়ার সদর দপ্তরের বাইরে। জানা গিয়েছে, সদর দপ্তরের প্রধান ফটকের কাছে একটি স্কুটারে বিস্ফোরণ হয়। বিকট শব্দে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে এবং সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনী এলাকা ঘিরে ফেলে। বিস্ফোরণে অন্তত একজন আহত হন বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ, বোম্ব স্কোয়াড এবং ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। বিস্ফোরণের উৎস, ব্যবহৃত বিস্ফোরকের ধরন এবং এর পিছনে কোনও জঙ্গি যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা শুরু হয়।
প্রথম ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অমৃতসরের খাসা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় দ্বিতীয় বিস্ফোরণ ঘটে। সেনা ছাউনি ও বিএসএফ ঘাঁটির অদূরে এই বিস্ফোরণ ঘিরে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়। নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত এলাকা সিল করে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। সীমান্তবর্তী এই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরপর বিস্ফোরণের ঘটনা প্রশাসনের উদ্বেগ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তদন্তকারীরা মনে করছেন, দুই ঘটনার মধ্যে কোনও সুসংগঠিত যোগসূত্র থাকতে পারে।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, পরিকল্পিতভাবে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। কিছু সূত্রে খালিস্তানপন্থী জঙ্গি সংগঠনের নাম সামনে এলেও সরকারি ভাবে এখনও কিছু নিশ্চিত করা হয়নি। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থাও ঘটনার তদন্তে যুক্ত হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
ঘটনার পর পাঞ্জাব জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। সীমান্ত এলাকা, সেনা ঘাঁটি, বিএসএফ ক্যাম্প এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলিতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। গোটা ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধীরা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, অন্যদিকে প্রশাসন দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছে।
পরপর এই বিস্ফোরণ পাঞ্জাবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সীমান্ত রাজ্যে জঙ্গি কার্যকলাপ পুনরায় সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। তদন্তকারীদের মতে, ঘটনার পূর্ণ সত্য উদঘাটন এবং এর নেপথ্যে থাকা চক্রকে চিহ্নিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।