ওঙ্কার ডেস্ক: ২০২৬ সালের ‘পুলিৎজার’ পুরষ্কারে ভারতীয় সাংবাদিকদের সাফল্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। চলতি বছরে তিন ভারতীয় সাংবাদিক তাঁদের অনুসন্ধানী, গভীর এবং বিশ্বমানের প্রতিবেদনের জন্য এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। ‘ব্লুমবার্গ বিসনেস’-এর ‘ট্রাপড্’ শীর্ষক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য আনন্দ আর কে সুপর্না শর্মা এবং নাতালে ওবিকো পিয়ারসন ইলাস্ট্রেটেড রিপোর্টিং অ্যান্ড কমেন্টারি বিভাগে পুলিৎজার পুরষ্কার অর্জন করেছেন। পাশাপাশি অ্যাসোসিয়েট প্রেসে কর্মরত অনুরুদ্ধ ঘোষাল আন্তর্জাতিক রিপোর্টিং-এর কন্য পুলিৎজার পেয়েছেন।
‘ব্লুমবার্গ বিসনেস’-এর ‘ট্রাপড্’ প্রতিবেদনে ভারতে দ্রুত বাড়তে থাকা সাইবার প্রতারণা, বিশেষ করে তথাকথিত “ডিজিটাল অ্যারেস্ট” চক্রের ভয়াবহতা অত্যন্ত তথ্যসমৃদ্ধ ও ব্যতিক্রমী উপস্থাপনায় তুলে ধরা হয়েছে। প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে কীভাবে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে, প্রতারণার জালে ফেলে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, তা এই প্রতিবেদনে বিশদভাবে প্রকাশ করা হয়। অনুসন্ধানের গভীরতা, তথ্যচিত্রের অভিনব ব্যবহার এবং সাধারণ মানুষের উপর এর প্রভাবকে শক্তিশালীভাবে উপস্থাপনের জন্য এই কাজ আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
অন্যদিকে, অ্যাসোসিয়েট প্রেসের হয়ে কাজ করা ভারতীয় সাংবাদিক অনুরুদ্ধ ঘোষাল আন্তর্জাতিক রিপোর্টিং বিভাগে পুলিৎজার পুরষ্কারে সম্মানিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিবেদনে মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলির প্রভাব, চীনের নজরদারি কৌশল এবং নেপালে তিব্বতি শরণার্থীদের জীবনযাত্রার উপর সেই ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, প্রযুক্তি এবং মানবাধিকার ইস্যুকে একত্রে তুলে ধরা এই প্রতিবেদনে বিশ্ব রাজনীতির এক জটিল বাস্তবতা স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। বিষয়বস্তুর গভীরতা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সঙ্কটের বাস্তবচিত্র তুলে ধরার ক্ষেত্রে এই কাজ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়েছে। পুলিৎজার পুরষ্কার কমিটি এই সাংবাদিকদের কাজকে আধুনিক সাংবাদিকতার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছে।