ওঙ্কার ডেস্ক: ইউরোপ জুড়ে ক্রমশ বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষিতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল ফ্রান্স সরকার। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রক আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে ফ্রান্সের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালকে বড়সড় যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রতিদিন শত শত আহত সেনা এবং ন্যাটো বাহিনীর সদস্যদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে।
২০২৫ সালের ১৮ জুলাই জারি হওয়া ওই সরকারি নির্দেশিকায় হাসপাতালগুলিকে জরুরি ভিত্তিতে যুদ্ধকালীন চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করতে বলা হয়েছে। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য বিমানবন্দর ও বন্দর সংলগ্ন এলাকায় “মেডিক্যাল স্টেজিং এরিয়া” বা অস্থায়ী চিকিৎসা শিবির গড়ে তোলার প্রস্তুতি রাখতে হবে। কেবলমাত্র ফরাসি সেনাই নয়, ন্যাটো মিত্র দেশগুলির আহত সেনাদেরও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালগুলিকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রী ক্যাথরিন ভত্রাঁ এই নির্দেশিকার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সরকারের দায়িত্ব সম্ভাব্য প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য আগে থেকে প্রস্তুত থাকা। এটি এক ধরনের কৌশলগত অনুশীলন, যেখানে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিকে ধরে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা মহামারীর ক্ষেত্রে আগে থেকে পরিকল্পনা করা হয়, তেমনি সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও আগেভাগেই স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
রাশিয়া ও ন্যাটো দেশগুলির মধ্যে বর্তমানে সম্পর্ক অত্যন্ত টানটান। বিশেষ করে রাশিয়ার ‘জাপাদ ২০২৫’ যৌথ সামরিক মহড়া বেলারুশে আয়োজনের খবরের পর থেকেই পশ্চিম ইউরোপে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে। ন্যাটোর পাঁচ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনও এক সদস্য রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে বাকি সকল সদস্যকে সম্মিলিত প্রতিরক্ষায় নামতে হবে। এই প্রেক্ষিতে ফ্রান্সের এমন প্রস্তুতি নেওয়াকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
এক ফরাসি সাপ্তাহিক পত্রিকাতে প্রথম এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই ইউরোপে আলোড়ন শুরু হয়। একে অনেকেই সম্ভাব্য তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বাভাস বলে মনে করছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি যুদ্ধের আশঙ্কা এখনও দূরে থাকলেও হাসপাতালসহ বেসামরিক পরিকাঠামোকে যুদ্ধোপযোগী করে তোলা ইউরোপীয় দেশগুলির দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কৌশলের অঙ্গ হয়ে উঠছে।
