ওঙ্কার ডেস্ক: ইসলামাবাদে দীর্ঘ সময় ধরে চলা আমেরিকা ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এই ব্যর্থতার পরই সরব হয়েছে ইজরায়েল। শুরু থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া দেশটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কূটনৈতিক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় তারা তাদের সামরিক অবস্থান আরও জোরদার করতে প্রস্তুত।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতিনয়াহু বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলা সামরিক অভিযান এখনও শেষ হয়নি। তাঁর কথায়, ইরানকে কেন্দ্র করে যে নিরাপত্তা হুমকি তৈরি হয়েছে, তা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান চালিয়ে যাওয়া হবে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
ইজরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি তাদের অস্তিত্বের জন্য সরাসরি হুমকি। এই কারণেই কূটনৈতিক আলোচনার প্রতি আস্থা না রেখে তারা বারবার সামরিক বিকল্পের কথা বলেছে। ইসলামাবাদের বৈঠক ভেঙে যাওয়ার পর সেই অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, আলোচনার ব্যর্থতার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতভেদ। আমেরিকা চেয়েছিল ইরান সম্পূর্ণভাবে তাদের পারমাণবিক প্রকল্প সীমিত বা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিক। কিন্তু তেহরান সেই শর্তে রাজি হয়নি। পাশাপাশি স্ট্রেট অব হরমুজের নিয়ন্ত্রণ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য ছিল।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইজরায়েল এখন আরও স্বাধীনভাবে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। এর ফলে শুধু ইরান নয়, লেবানন-ভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির সঙ্গেও সংঘাতের সম্ভাবনা বেড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে হিজবুল্লাহ-কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা নতুন মাত্রা নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়াও যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আলোচনায় কোনও অগ্রগতি না হওয়ায় ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে। যেকোনও সময় বড়সড় সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থির করে তুলতে পারে।