ওঙ্কার ডেস্ক: মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে সম্পন্ন হল আশা ভোঁসলের শেষকৃত্য। পরিবার-পরিজন, অভিনেতা-অভিনেত্রী, হাজার হাজার অনুরাগীরা চোখে জল নিয়ে কিংবদন্তি শিল্পীর নিথর দেহের দিকে তখনও সকলে চেয়ে। বিকেল চারটে নাগাদ কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে শুরু হয় আশার শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান। সোমবার সকাল থেকেই তৎপর ছিল মুম্বইয়ের পুলিশ প্রশাসন। শেষযাত্রার জমায়েতে যাতে স্বাভাবিক যান চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় থাকে, তার জন্যে দাদরের শিবাজি পার্ক পর্যন্ত কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে শেষ কাজ সম্পন্ন করা হয়। আধিকারিক-সহ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন ছিল এদিন।
জানা গিয়েছে, বিপুল জনসমাগমের জন্য যান চলাচলের গতিপথ পরিবর্তন করার পাশাপাশি বেশ কিছু বিধিনিষেধ জানানো হয়েছিল মুম্বই ট্রাফিক পুলিশের তরফে। শিবাজী পার্ক সংলগ্ন ভাগোজি বালুজি কীর হিন্দু শ্মশানে তাঁর সৎকার সম্পন্ন হয়। শেষকৃত্যে যোগ দিয়েছেন বলিপাড়ার একাধিক অভিনেতা অভিনেত্রীরা, ছিলেন রণবীর সিং, ভিকি কৌশল, আমির খান, বিবেক ওবেরয়, পুনম ধিলোঁ-সহ আরও অনেকে। ‘আশাজি অমর রহে’ ধ্বনিতেই কিংবদন্তিকে চোখের জলে শেষবিদায় জানান অনুরাগীরা।
উল্লেখ্য, শনিবার বিকেলে আশা ভোঁসলেকে মুম্বইয়ের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। নাতনি জানিয়েছিলেন, প্রবল ক্লান্তি এবং বুকে সংক্রমণের কারণেই ভর্তি করা হয়েছে দিদিমাকে। কিন্তু আর শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, একাধিক শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। মাল্টি অরগ্যান ফেলিওরের কারণেই মৃত্যু হয় আশা’জীর।
প্রায় আট দশকের দীর্ঘ সঙ্গীতজীবনে অসংখ্য অমর গান তাঁর। চল্লিশের দশকে মারাঠি ছবির গান দিয়ে শুরু। তারপর হিন্দি, বাংলা-সহ একাধিক ভাষায় তাঁর কণ্ঠ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। একসময় তাঁকে কেবল চটুল গান থেকে গজল, শাস্ত্রীয় সঙ্গীত সব ক্ষেত্রেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনেও বহু উত্থান-পতনের সাক্ষী হয়েছেন। তবু সঙ্গীতই ছিল তাঁর নিজের। তাঁর কথায়, সঙ্গীতই শ্বাসপ্রশ্বাস। ২০০০ সালে ফিল্মফেয়ার লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় আশা ভোসলে কে৷ ২০০৮ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পান আশা৷ পদ্মবিভূষণ, সেরা গায়িকার একাধিক পুরস্কার আশার ঝুলিতে৷ এমনকি একসময় তিনি পুরস্কার নেওয়াও বন্ধ করে দিয়েছিলেন যাতে অন্যরা পুরস্কার পান। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডেও নিজের নাম লিখিয়েছেন আশা। ২০ টির বেশি ভাষায় ১৪ হাজার গান গেয়েছেন। ৯০ বছর বয়সেও কনসার্ট করেছেন আশা৷ হিন্দি, মারাঠি, বাংলা, গুজরাটি, পাঞ্জাবি থেকে শুরু করে ইংরেজি ও রুশ ভাষাতেও গান করেছেন।
মেরা কুছ সামান, দিল চিজ ক্যায়া হ্যায়, কতরা কতরা, পিয়া তু, ফিরে এলাম দূরে গিয়ে, ভেবেছি ভুলে যাব, সেই তালিকা শেষ হওয়ার নয়।
স্বাভাবিকভাবেই আশা ভোঁসলের প্রয়াণে সঙ্গীতজগতে অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হল। এক যুগের অবসান ঘটল। তবুও তাঁর কণ্ঠ, তাঁর গান চিরকাল বেঁচে থাকবে শ্রোতাদের মনে।