ওঙ্কার ডেস্ক : ফের সরকারি হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্যপদ পেলেন তৃণমূলের চিকিৎসক বিধায়ক নির্মল মাজিা। যদিও এবার তাঁকে চেয়ারম্যান করা হয়নি, তবে কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান রিজিওনাল ইন্সটিটিউট অফ অপথালমোলজি–র রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতর। ফলে একরকম প্রশাসনিক স্তরে আবারও প্রত্যাবর্তন ঘটল তাঁর, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
এর আগে তিনি ছিলেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান পদে। তবে সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। এসএসকেএম হাসপাতালে কুকুরের ডায়ালিসিস করানোর চেষ্টা থেকে শুরু করে, মেয়াদ ফুরনো স্টেন্ট ব্যবহারের জন্য চিকিৎসকদের উপর চাপ সৃষ্টি করার মতো বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। এইসব অভিযোগের জেরে ২০২২ সালে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয় চেয়ারম্যানের পদ থেকে।
দীর্ঘদিন কার্যত প্রশাসনিক পরিসর থেকে দূরে থাকলেও, এবার ফের রাজ্য সরকারের তরফে তাঁকে সদস্য করা হয়েছে। শনিবার রিজিওনাল ইন্সটিটিউট অফ অপথালমোলজির রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে তিনি নিজেও উপস্থিত ছিলেন।
বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলে নির্মল মাজির সাফাই, “ভালো কাজ করলে তো নিন্দা হবেই। আমার লক্ষ্য একটাই—একটাই—রোগীদের পাশে থাকা, মানুষের সেবা করা। সরকার আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, সেটা আমি যথাযথভাবে পালন করব।”
তবে এই মন্তব্যে বিতর্ক থামেনি। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির কটাক্ষ, “স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো স্পর্শকাতর বিভাগে এমন বিতর্কিত ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনা আসলে জনস্বার্থ নয়, দলীয় আনুগত্যের পুরস্কার।” অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, বিতর্কিত অতীত থাকা সত্ত্বেও একজন চিকিৎসককে ফের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আনার যৌক্তিকতা কী?
একাংশের মতে, রোগী কল্যাণ সমিতির মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কোনও নেতাকে দায়িত্ব দেওয়ার আগে তাঁর কাজের পটভূমি যাচাই করা উচিত। তাঁদের কথায়, “একদিকে সরকার স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নত করার দাবি করছে, অন্যদিকে বিতর্কে জর্জরিত ব্যক্তিদের দিয়ে সেই ব্যবস্থার উপর কর্তৃত্ব রাখতে চাইছে। এতে মানুষের আস্থা কমবে।”
অন্যদিকে, তৃণমূলের অন্দরমহলে একাংশের বক্তব্য, নির্মল মাজি বহুদিন দলের জন্য কাজ করেছেন। চিকিৎসক হিসেবে তাঁর পরিচিতি দীর্ঘদিনের। অতীতে কিছু বিতর্ক থাকলেও তাঁকে একেবারে ছেঁটে ফেলা রাজনৈতিকভাবে ঠিক হতো না। ফলে ফের তাঁকে ব্যবহার করায় দলে অসন্তোষ নেই।
সব মিলিয়ে বিতর্কের মাঝেই প্রশাসনিক স্তরে নির্মল মাজির প্রত্যাবর্তন একদিকে যেমন বহন করছে, তেমনি স্বাস্থ্য পরিষেবার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও তুলছে বড় প্রশ্ন। স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়নের লক্ষ্যে এগোনো রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত যথার্থ কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা রাজনৈতিক বার্তা
