ওঙ্কার ডেস্ক : নোবেল শান্তি পুরষ্কারের অন্তীমকালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনয়নকে সমর্থন করেছিল মস্কো, তবে শেষ পর্যন্ত শান্তিতে নোবেল পেলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। একদিকে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্টের নাম ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতির মঞ্চে আলোচনার ঝড়, অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকার এই ‘আয়রন লেডি’-র লড়াই বিশ্বশান্তির প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইউরি উশাকভ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের নোবেল মনোনয়নের পক্ষে সওয়াল করেন। তাঁর দাবি, ট্রাম্প রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েছেন, বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। উশাকভ বলেন, “বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় যে নেতৃত্ব দেখিয়েছেন, ট্রাম্প নোবেলের যোগ্য।” জানা গিয়েছে, ট্রাম্প নিজেও একাধিকবার নোবেল শান্তি পুরস্কারের দাবি করে এসেছেন। এতে থেমে থাকেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি আরও বলেন, বারাক ওবামা কোনো কারন ছাড়াই নোবেল শান্তি পুরষ্কার পেয়েছিলেন।
একদিকে ট্রাম্প এবং তাঁর অনুগামী দেশ যেমন পাকিস্তান, ইজরায়িল বারংবার ট্রাম্পের নোবেল শান্তি পুরষ্কার পাওয়ার পক্ষে সাওয়াল তোলেন। এমনকি ট্রাম্প শিবিড় বারবার একই প্রসঙ্গে কথা বলে এসেছে। বিশ্ববাসীর নজর যখন ট্রাম্পের সম্ভাব্য মনোনয়নের দিকে, নোবেল কমিটি ঘোষণা করল ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাচ্ছেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো।
মারিনা কোরিনা মাচাদোর নোবেল শান্তি পুরষ্কার জেতার নেপথ্যের কারন হিসাবে নোবেল অ্যাকাডেমি জানিয়েছে, বছরের পর বছর ধরে ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মুক্ত নির্বাচনের দাবিতে লড়ছেন মাচাদো। দেশের নারীরা ও তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি সংগ্রামের প্রতীক। বর্তমানে স্বৈরাচারী শাসক নিকোলাস মাদুরোর বিরোধিতার কারণে আত্মগোপনে রয়েছেন তিনি। নোবেল কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মারিয়া কোরিনা মাচাদো নিজের জীবন বিপন্ন করে ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র রক্ষার জন্য যে সাহস দেখিয়েছেন, তা আজকের বিশ্বে বিরল উদাহরণ। তাঁর এই নির্ভীক অবস্থানই তাঁকে শান্তিতে নোবেল এনে দিয়েছে।
এই ঘোষণার পর থেকেই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। অনেকে মনে করছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পুরস্কার না দেওয়া একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।
অন্যদিকে, বিশ্লেষকরা বলছেন, মাচাদোর নোবেলপ্রাপ্তি বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য লড়াই করা মানুষদের এক বড় বার্তা দিয়েছে। ট্রাম্পের নোবেল না জেতার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নে অ্যাকাদেমির তরফ থেকে জানানো হয়, “নোবেল শান্তি পুরষ্কারের ইতিহাসে এই কমিটি একাধিক মিডিয়া ক্যাম্পেন দেখেছে। কমিটির কাছে শান্তির সংজ্ঞা সম্মদ্ধে হাজার হাজার চিঠি আসে। কে বা কারা পুরষ্কারের প্রাপ্য তা সম্পুর্ন নির্ধারন করে কমিটি, যা মনোনিত ব্যাক্তিবর্গ দের সাহস ও কাজের উপর নির্ভর করে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, রাশিয়া এবং ট্রাম্পের মধ্যেকার সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত। ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিমী দেশগুলির নিষেধাজ্ঞা এবং ট্রাম্পের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা সব মিলিয়ে নোবেল প্রসঙ্গে মস্কোর সমর্থন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত নোবেল কমিটি স্পষ্ট করে দিয়েছে শান্তির পুরস্কার শুধুমাত্র কূটনৈতিক চেষ্টার জন্য নয়, বরং মানবতার পক্ষে নির্ভীক সংগ্রামের স্বীকৃতিও বটে।
নরওয়েতে অনুষ্ঠিত নোবেল শান্তি পুরষ্কার ঘোষনা করার পরই হোয়াইট হাউস সরকারি ববৃতি দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র স্টিভেন চিউং এক্স-এ এক পোস্টে বলেছেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শান্তি চুক্তি, যুদ্ধের অবসান এবং জীবন বাঁচানো অব্যাহত রাখবেন। তাঁর মধ্যে একজন মানবতাবাদী হৃদয় রয়েছে এবং তাঁর মতো কেউ কখনও আসবে না যে তাঁর ইচ্ছাশক্তির জোরে পাহাড় সরাতে পারে”।
নোবেল শান্তি পুরষ্কার ঘোষণার পর ভেনেজুয়েলার জনগণ আনন্দে ফেটে পড়েছেন। দেশের বিরোধী শিবির বলছে, এই নোবেল পুরস্কার শুধু মাচাদোর নয়, বরং ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তনের এক আশার প্রতীক।
