ওঙ্কার ডেস্ক: পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে হতে চলেছে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ শান্তি বৈঠক, যা চলমান সংঘাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেবে। দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ ধরে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির আবহে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে, ফলে আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন এই আলোচনার দিকে।
এই বৈঠকে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। ইরানে ইসলামিক রিপাবলিকানের সরকার গঠন হওয়া পর এই প্রথম মুখোমুখি ইরান আমেরিকা। সেকারণেও এই স্তরের সংলাপ হওয়ায় কূটনৈতিক দিক থেকে এর তাৎপর্য অত্যন্ত বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আলোচনা সফল হলে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা কিছুটা হলেও কমতে পারে এবং একটি স্থায়ী সমাধানের পথ প্রশস্ত হতে পারে। তবে শুরু থেকেই আলোচনাকে ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে লেবাননে চলা সংঘর্ষ এবং ইজরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া উচিত। অন্যদিকে, আমেরিকা এই বিষয়গুলোকে মূল আলোচনার বাইরে রাখতে আগ্রহী বলে জানা গেছে। ফলে প্রথম থেকেই মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এছাড়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা এই সব বিষয়ও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। ইরান তাদের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি তুলেছে এবং যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণও চেয়েছে। এই দাবিগুলো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতভেদ থাকার সম্ভাবনা প্রবল।
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতা। লেবানন-ইজরায়েল সীমান্তে সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদের আলোচনা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। এদিকে, আমেরিকার পক্ষ থেকেও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে যে আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক বিকল্পও খোলা রাখা হবে। ফলে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি সংঘাত ফের তীব্র হওয়ার আশঙ্কাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।