ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও। ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁদের একটি ছবি ভাইরাল হওয়ার পর সমালোচনার মুখে পড়েছেন পাক সেনাপ্রধান। ছবিতে দেখা গিয়েছে ওভাল অফিসে মুনির এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিরল খনিজের একটি বাক্স উপহার দিচ্ছেন। আর এই ঘটনার পর পাকিস্তানের অন্দরে সমালোচনার মুখে পড়েছে শাহবাজ শরিফের সরকার।
পাকিস্তানের খনিজ সম্পদ ট্রাম্পের সামনে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে এই বাক্স উপহার দেওয়া হলেও বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি দেশটির সিনেটর আইমাল ওয়ালি খান। তিনি মুনিরকে ‘সেলসম্যানের মতো’ আচরণ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ ম্যানেজারের মতো তা দেখছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান কোন ক্ষমতায় বিদেশী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন? এটিকে ‘সংবিধানের সঙ্গে রসিকতা’ এবং ‘সংসদের অবমাননা’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। শাহবাজ শরিফ সরকারকে নিশানা করে তিনি বলেন, ‘এটা গণতন্ত্র নয়, একনায়কতন্ত্র’। ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার প্রতি পাকিস্তানের সমর্থন, সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির বিবরণ এবং কেন মুনির সাধারণত বেসামরিক নেতাদের জন্য সংরক্ষিত কূটনৈতিক যোগাযোগে অংশ নিচ্ছেন তা স্পষ্ট করার জন্য সংসদের যৌথ অধিবেশন ডাকার দাবি জানান তিনি।
মার্কিন এবং ইউরোপীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে খনিজ রফতানি এবং শোধনাগার প্রকল্প বিষয়ে নতুন সহযোগিতা চুক্তি ঘোষণা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পাকিস্তান। এর পরেই বিতর্ক তৈরি হল। সরকার এই চুক্তিগুলিকে অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের পথ হিসেবে প্রশংসা করছে। তবে সমালোচকদের যুক্তি, সেনাপ্রধানের এই ধরনের উদ্যোগে নেতৃত্ব দেওয়া বেসামরিক কর্তৃত্বকে দুর্বল করে এবং আন্তর্জাতিকভাবে পাকিস্তানকে দুর্বল হিসেবে তুলে ধরে।
