ওঙ্কার ডেস্ক: উত্তরাখণ্ডে পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে এক যুবকের গ্রেফতারিকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দেহরাদূনের প্রেম নগর এলাকা থেকে ২৯ বছর বয়সী বিক্রান্ত কাশ্যপ নামের এক ব্যাক্তিকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। গোটা ঘটনায় জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের কাছ থেকে একটি পিস্তল, কার্তুজ এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি দেহরাদূনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানের তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। এর মধ্যে ছিল প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত এলাকা, সরকারি দফতর এবং সেনা ঘাঁটির ছবি ও ভিডিও। অভিযোগ, এই সব তথ্য নিয়মিতভাবে পাকিস্তানে পাঠানো হত। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ধৃত যুবকের সঙ্গে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-সহ জঙ্গি ঘনিষ্ঠদের যোগাযোগ ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে তিনি বিদেশি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তাদের নির্দেশ মেনেই তিনি শহরের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থানে নজরদারি চালাতেন বলে অভিযোগ।
শুধু তথ্য পাচারেই সীমাবদ্ধ ছিল না তার কাজ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, দেহরাদূনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বিস্ফোরণের পরিকল্পনাও করা হচ্ছিল। পুলিশ সদর দফতর, আইএসবিটি এবং জনবহুল এলাকায় হামলার ছক ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। এমনকি হামলার পর কীভাবে দেশ ছেড়ে পালানো যাবে, তারও পরিকল্পনা তৈরি ছিল। ধৃতের মোবাইল ফোন থেকে সেই সংক্রান্ত নথি ও রুট ম্যাপ উদ্ধার হয়েছে।
পুলিশের দাবি, পাকিস্তান থেকেই সরাসরি নির্দেশ পেতেন তিনি। নেপাল হয়ে দুবাই পালানোর ছকও কষা হয়েছিল। শহরের বিভিন্ন জায়গায় সন্দেহজনক কিছু লেখা নজরে আসার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সেই সূত্র ধরেই ধরা পড়ে এই চক্রের যোগসূত্র এবং শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্তকে।
ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, কোনও বড় নেটওয়ার্ক এর সঙ্গে যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। গোটা ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।