ওঙ্কার ডেস্ক: বিগত কয়েক দিন ধরেই উতপ্ত ভারতের দুই প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান। বুধবার ফের সীমান্ত দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পরল দুই দেশ। আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশ এবং পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চল, এই দুই এলাকায় সংঘর্ষ বাঁধে তালিবান এবং পাকিস্তানি সেনার মধ্যে। পাকিস্তানি সেনার হামলায় আফগানিস্তানের ১২ জন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছন বলে দাবি করেছে তালিবানের বিদেশ মন্ত্রক। আহত শতাধিক।
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। বুধবার আফগান তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, পাকিস্তানি সেনারা আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশের স্পিন বলডাক এলাকায় আচমকা হামলা চালিয়েছে।
পাকিস্তানের এই হামলার জবাবে তালিবান বাহিনী পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে স্পিন বলডাক গেট দখল করেছে এবং পুরো এলাকা এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছে। তালিবান সূত্র জানিয়েছে, তাদের এই প্রতিরক্ষা অভিযান সফল হয়েছে এবং পাকিস্তানি বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আফগান বাহিনী অপ্ররোচিতভাবে হামলা চালিয়েছে, যার প্রতিক্রিয়ায় তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানি সেনারা আফগান ট্যাঙ্ক ও সামরিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
সীমান্তবর্তী এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ বিরাজ করছে। উভয় দেশের সীমান্ত বন্ধ থাকায় হাজার হাজার পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়েছে এবং বহু মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে এলাকা ছাড়ছেন। এ কারণে সাধারণ জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহল এই সংঘর্ষের তীব্রতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং উভয় পক্ষকে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে। তবে সীমান্তে চলমান সংঘর্ষের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। সামরিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, যদি অবিলম্বে মধ্যস্থতা না করা হয়, তবে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে এবং সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই পাকিস্তান আফগানিস্তান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গাজা উপত্যকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্মেলনের প্রাক্কালে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, “ সম্প্রতিকালে পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের সম্পর্ক উতপ্ত হয়ে উঠেছে। সেখানে শান্তি ফেরাতে আগ্রহী আমি”। দেশে ফিরে এ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
